বিজ্ঞাপন

‘মানুষকে চোঁখ বেঁধে খাঁচায় বন্দি রাখার আইন কোথায়?’

‘মানুষকে চোঁখ বেঁধে খাঁচায় বন্দি রাখার আইন কোথায়?’

যারা আয়নাঘর সৃষ্টি করেছে, তাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ গুম পরিবার কল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বেল্লাল হোসেন।

তিনি সাংবাদিকদের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, মানুষকে চোখ বেঁধে খাঁচার ভেতরে বন্দি করে রাখার বিধান বাংলাদেশের কোন আইনে আছে?

বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

বেল্লাল হোসেন বলেন, যারা এই আয়নাঘর প্রতিষ্ঠা করেছে, তাদের অনেকেই এখনো প্রশাসনের মধ্যে রয়েছে। প্রশাসনের ভেতরে থাকা বিগত সরকারের ওইসব অনুগতরা এখন জুলাই বিপ্লবের বীরদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।

তিনি বলেন, সিআইডি, ডিবি ও থানা পুলিশের মধ্যে থাকা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ওইসব সহকারীরা এখন জুলাই হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার প্রক্রিয়া নস্যাৎ করতে চেষ্টা চালাচ্ছে এবং ভিক্টিমদের ভয় দেখাচ্ছে। 

এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। 

ভুক্তভোগীদের অধিকার আদায়ের লড়াই অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা আয়নাঘরের মতো বিভীষিকা থেকে ফিরে এসেছেন, তাদের কল্যাণে ‘বাংলাদেশ গুম পরিবার কল্যাণ ফাউন্ডেশন’ (বাংলাদেশ বন্ধু ফাউন্ডেশন) নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। জয়েন্ট স্টক থেকে নিবন্ধিত এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ ১১ মাস ধরে গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। 

তিনি বলেন, গোপন বন্দিশালা বা আয়নাঘর কোনো আইনি জেলখানা ছিল না, বরং কিছু ‘জারজ সন্তানের’ তৈরি করা অমানবিক নিপীড়ন কেন্দ্র ছিল। 

জুলাই বিপ্লবের বীরত্বগাথা আর আবু সাঈদ-আনাসদের রক্তমাখা স্মৃতি পরিদর্শন করে তিনি আবেগাপ্লুত হয়েছেন বলে জানান। বলেন, যার সন্তান গেছে, সেই বোঝে হারানোর বেদনা কত গভীর। কোলের শিশুকে মায়ের বুক থেকে ছিঁড়ে নিয়ে যাওয়ার যে রক্তমাখা ইতিহাস আমরা আজ দেখে এলাম, তা যুগ যুগ ধরে আমাদের সন্তানদের জানানো উচিত। 

তিনি এই জাদুঘরকে ১৭ বছরের জুলুম-অত্যাচার থেকে মুক্তির একটি জীবন্ত প্রতিশ্রুতি হিসেবে অভিহিত করেন।

এমএমএইচ/এমএসএ