বিজ্ঞাপন

জবির আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে বিরোধীদলীয় নেতা

জবির আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে বিরোধীদলীয় নেতা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাস–সংক্রান্ত দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে গেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে আহত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) নেতাদের ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

হাসপাতালে তিনি আহত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা করেন। 

পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গত কয়েক দিনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, ঢাকা কলেজ ও বাংলা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এসব হামলায় ছাত্রশিবিরের বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত জিএসসহ কয়েকজন গুরুতর জখম হয়েছেন। হামলার ধরনকে তিনি ‘ফ্যাসিবাদী কায়দার’ সঙ্গে তুলনা করে বলেন, আহতদের হাসপাতালে গিয়েও হামলার শিকার হতে হয়েছে। 

জামায়াত আমির আরও বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীদের হয়রানি করা হলে জনগণ ভুল বার্তা পাবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা বন্ধ, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। 

এ সময় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ও শাখা পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসনের পরিবর্তে স্থায়ী আবাসন নির্মাণ এবং চিকিৎসাসেবার উন্নয়ন এই তিন দাবিতে কয়েকজন শিক্ষার্থী প্ল্যাকার্ড হাতে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের বাইরে অবস্থান নেন। পরে তারা অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের চেষ্টা করলে প্রক্টরিয়াল টিম বাধা দেয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ ঘটনায় জকসুর স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ, ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া, ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসিভসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

এমএল/বিআরইউ