বিজ্ঞাপন

জবাবদিহিতা ও সংস্কার ছাড়া জনগণের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয় : আনসার ডিজি

জবাবদিহিতা ও সংস্কার ছাড়া জনগণের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয় : আনসার ডিজি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে প্রশাসনিক, প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল কার্যক্রমে ব্যাপক সংস্কার আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

তিনি বলেন, জবাবদিহিতা, সততা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে একটি আধুনিক, জনবান্ধব ও সেবামুখী বাহিনী গড়ে তোলার কাজ চলমান রয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে আনসার ও ভিডিপি সদর দপ্তরে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। 

দিবসটি উপলক্ষ্যে সদর দপ্তরের পাশাপাশি বাহিনীর সব রেঞ্জ, জেলা, মহানগর, ব্যাটালিয়ন ও উপজেলা কার্যালয়েও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক বলেন, বিভিন্ন স্তরে অনৈতিক চর্চা, অপেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতার অভাব জনগণের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান তৈরি করে। তাই রাষ্ট্রের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্ব হলো জনগণের প্রতি জবাবদিহি নিশ্চিত করে সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ধারাবাহিকতায় বাহিনীর প্রশাসনিক, প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাম্য, ন্যায্যতা ও প্রাপ্যতার নীতিকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনা হয়েছে। এর ফলে সদস্যদের মধ্যে জবাবদিহিতা ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ার পাশাপাশি সেবার মানও উন্নত হয়েছে।

মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, চলমান সংস্কারের ফলে নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈষম্য দূরীকরণ, সমঅধিকার নিশ্চিত করা, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং স্বনির্ভরতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি নৈতিকতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের চর্চাকে টেকসই রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম শর্ত বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং প্রান্তিক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাহিনীর সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভবিষ্যতেও জনগণের আস্থা ধরে রাখতে একই নিষ্ঠায় কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি, রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং নতুন বাংলাদেশের রূপান্তরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে নির্মিত আটটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এ সময় মহাপরিচালক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এসব প্রামাণ্যচিত্রের শিক্ষা ও মূল্যবোধ নিজেদের কর্মজীবনে ধারণ করার আহ্বান জানান।

দিবসটি উপলক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার বাণী পাঠ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আনসার ও ভিডিপি হাসপাতালে রোগীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন এবং জোহরের নামাজের পর বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। দোয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের মাগফিরাত, আহতদের সুস্থতা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে বাহিনীর উপমহাপরিচালক, পরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জেইউ/বিআরইউ