চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবুর রহমান শামীম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একদিনের ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম, গুম, হত্যা, কারাবরণ ও নির্যাতনের ধারাবাহিক ফল। তিনি দাবি করেন, ছাত্রদের আন্দোলনের সময় বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) তারেক রহমান নিয়মিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে রাজপথে থাকার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তার নেতৃত্ব ও ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনের মধ্য দিয়েই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছিল।
বুধবার (৫ আগস্ট) চট্টগ্রাম নগরের জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতালের সেমিনার হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে শহীদদের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট ও জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতালের উদ্যোগে মানবতা, আত্মত্যাগ ও জাতীয় চেতনায় শহীদদের অবদান প্রতিপাদ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনায়ও দোয়া করা হয়।
মাহবুবুর রহমান শামীম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিভক্তি বা বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই। এটি ছাত্র, জনতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সম্মিলিত আন্দোলনের ফসল। তবে শুরু থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীরা ছাত্রদের পাশে থেকে সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতালের চেয়ারম্যান হিসেবে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার প্রসঙ্গ তুলে শামীম বলেন, এক সময় এ হাসপাতালের সেবার মান অনেক সরকারি হাসপাতালের চেয়েও উন্নত ছিল। সেই হারানো গুণগত মান ফিরিয়ে আনতে চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। আন্দরকিল্লার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে নগরবাসী আরও বেশি উপকৃত হবে।
জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতালের চিফ মেডিকেল অফিসার ও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নাজ সোহানী সুলতানার সভাপতিত্বে এবং পরিচালনা কমিটির সদস্য রায়হানুল আনোয়ার রাহীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় বোর্ড সদস্য ডা. সারওয়ার আলম।
এ ছাড়া, বক্তব্য দেন জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতালের পরিচালনা কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বাবর, নার্সিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মর্জিনা আক্তার, হাসপাতালের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দৌলা সুজন, রেড ক্রিসেন্টের ইউনিট লেভেল অফিসার জিয়াউল হক জিয়া, যুব রেড ক্রিসেন্ট চট্টগ্রাম ইউনিটের যুবপ্রধান সিরাজুল করিম হিরু এবং নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস জুঁইসহ অন্যরা।
এমআর/এসএএস
