বিজ্ঞাপন

ঢাকায় মহাসমাবেশসহ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য

ঢাকায় মহাসমাবেশসহ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য

আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লং মার্চ, ঢাকা থেকে রংপুর, ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া ও ঢাকা থেকে সিলেট অভিমুখে রেলযাত্রা লং মার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য জোট। 

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে জ্বালানি তেল, গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল ও মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। সেখানে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা আজ এখানে বক্তৃতা দিতে আসিনি। আমরা এসেছি ১১ দলের পক্ষ থেকে জনগণের ১১ দফা আপনাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য। এই ১১ দফা কোনো দলের নয়, কোনো গোষ্ঠীর নয়, কোনো ব্যক্তি স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়। এই ১১ দফা ১৮ কোটি মানুষের অধিকার।

তিনি বলেন, ভারী বৃষ্টির মধ্যেও আপনারা অবস্থান ত্যাগ করেননি। আল্লাহর ওপর ভরসা করে ইনশাআল্লাহ আমরা পারব। আমরা জনগণের অধিকার আদায় করে ছাড়ব। আমাদের আন্দোলন অব্যাহত চলবে।

তিনি আরো বলেন, বৈষম্য দূরীকরণ, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নিয়ন্ত্রণ করে কমিয়ে আনা, জনগণকে দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আন্দোলন চলছে। একইসঙ্গে যারা হত্যা, লুটপাট ও বিভিন্ন অপরাধ করেছে তাদের বিচার নিশ্চিত করার দাবিও এই আন্দোলনের অংশ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা এ দেশের মানুষের বুকে গুলি চালিয়ে বিভিন্নভাবে হত্যা করেছে এবং জনগণের ওপর জুলুম করেছে, মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে আমরা বলছি, আমরা জীবিত থাকা অবস্থায় বাংলাদেশে তারা আশ্রয়-প্রশ্রয় পাওয়ার সুযোগ পাবে না।

তিনি বলেন, আমাদের এই চলমান আন্দোলন দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

এর আগে ১১ দল জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে উল্লেখ করে তিনি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লং মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত কর্মসূচি, ১০ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া, ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেট অভিমুখে রেলযাত্রা লং মার্চ এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, এই লং মার্চ জনগণের দাবি আদায়ের জন্য। অতীতের কায়দায়, ফ্যাসিবাদী কায়দায় আমাদের লং মার্চে যেন কোনো বাধা দেওয়া না হয়। যদি বাধা দেওয়া হয়, লং মার্চ ইনশাআল্লাহ তার গন্তব্যে পৌঁছে যাবে।

সিলেটগামী কর্মসূচি সড়কপথের পরিবর্তে রেলপথে আয়োজনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এতে সড়কে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কম হবে।

জামায়ের আমির বলেন, ১৪ নভেম্বর বাংলাদেশের প্রত্যেকটি গ্রাম, পাড়া ও মহল্লা থেকে মানুষ ঢাকার দিকে রওনা করবে। ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। আজ থেকেই সেই প্রস্তুতি নিন।

তিনি বলেন, এই সচিবালয় কোনো দলের নয়। এই সচিবালয়ের প্রত্যেকটি ইট, বালু, পাথর, রড, সিমেন্ট জনগণের সম্পত্তি। সেখানে যারা বসে আছেন, মন্ত্রী হন বা এমপি হন, জনগণের কথা শুনতে হবে, জনগণের কথা মানতে হবে।

গ্যাসের দাম বাড়ানোর আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আর দাম বাড়ানোর দিকে হাত বাড়াবেন না। গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফন্দি-ফিকির করছেন, আমরা বুঝতে পারছি। সংকট তৈরি করে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে দাম বাড়াতে চাইছেন। আমরা তা হতে দেব না, ইনশাআল্লাহ।

এমআইএস/জেডএস

বিজ্ঞাপন