জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘শিকল ভাঙার জুলাই’ শীর্ষক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে এ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
এতে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমি এই সংকলনের মোড়ক উন্মোচনের মাধ্যমে জাতিকে জানিয়ে রাখতে চাই, আমরা যেমন শিকল ভাঙতে পেরেছি, তেমনি শিকলমুক্ত গণতান্ত্রিক একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাতেও আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
তিনি বলেন, এবারের শিকল ভাঙার মধ্য দিয়ে আমাদের শুধু নতুন করে জাগ্রত হলেই চলবে না, আর যেন কখনোই কেউ শিকল পরানোর সুযোগ না পায়, সেরকম একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আমরা তৈরি করতে চাই।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জন্মের ৫৫ বছর পেরিয়ে গেছে, অথচ শিকল ভাঙতে হচ্ছে এখনও। একটা স্বাধীন দেশ এবং তার মালিক জনগণ, তাদের কণ্ঠ, অধিকার ও সৃষ্টিশীল ক্ষমতাকে বারবার শিকলে বাঁধা হয়েছে। এই শিকলবদ্ধতার কারণেই দেশ ও জাতি তাদের কাঙ্ক্ষিত অর্জনে পৌঁছাতে পারেনি। তাই এবারের শিকল ভাঙার মধ্য দিয়ে আমাদের শুধু নতুন করে জাগ্রত হলেই চলবে না, আর যেন কখনোই কেউ শিকল পরানোর সুযোগ না পায়, সেরকম একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আমরা তৈরি করতে চাই।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বারবার শিকল ভাঙতে আমাদের রক্ত দিতে হয়েছে, প্রাণ দিতে হয়েছে, বিসর্জন দিতে হয়েছে। অথচ পৃথিবীর অনেক দেশ ধারাবাহিকভাবে তাদের সমৃদ্ধির পথ ধরে রাখতে পেরেছে বলেই বিশ্বশক্তিতে পরিণত হয়েছে। আমাদের দেশে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায়নি।
অতীতের আন্দোলনের সঙ্গে এবারের আন্দোলনের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আগের আন্দোলনগুলো ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ ও জনবিক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পর আবারও পুরোনো ব্যবস্থা ফিরে এসেছে। এবার আমরা ফ্যাসিবাদ হটানোর পাশাপাশি দেশ গড়ার কথাও ভেবেছি। জনগণকে সেই পরিকল্পনা জানিয়েই আমরা এগিয়েছি।
তিনি বলেন, অর্জিত প্রাণ ও রক্তের বিনিময়ে পাওয়া বিজয়কে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হলে পুরোনো ব্যবস্থা দিয়ে তা সম্ভব নয়। তাই একদিকে যেমন শিকল ভাঙার কথা বলেছি, অন্যদিকে রাষ্ট্র কাঠামো ও রাজনীতিকে মেরামতের কথাও বলেছি। আমাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে কখনোই আন্দোলন-সংগ্রামের আগে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল আন্দোলন-পরবর্তী লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারেনি। এমনকি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ও এমন লক্ষ্য নির্ধারিত ছিল না। এবারের শিকল ভাঙার আন্দোলনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, শিকল ভাঙার পর আমরা কী করব, তা আমাদের নেতা তারেক রহমান ৩১ দফার মাধ্যমে আগেই বলেছেন। আমরা সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলছি।
অনুষ্ঠান শেষে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমি নিশ্চিত, আপনারা সবাই আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া দেখেছেন। তথ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, সেটারই প্রতিধ্বনি করছি।
এসএইচআর/এনএফ
