বিজ্ঞাপন

৫ মোটরসাইকেলসহ ৩ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার, চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

৫ মোটরসাইকেলসহ ৩ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার, চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের পটিয়ায় পাঁচটি মোটরসাইকেল থেকে ৩ কোটি টাকা মূল্যের ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৭। এ সময় মাদক কারবারি চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং জব্দ করা হয়েছে ৫টি মোটরসাইকেল।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রামের পটিয়া সরকারি কলেজ জামে মসজিদের বিপরীতে সুলতান হোটেলের সামনে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ের র‍্যাব-৭ এর সিপিসি-৩ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মো. তাওহিদুল ইসলাম।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মোহাম্মাদ বশির (৩৮), বেলাল উদ্দিন (৩২), নুরুল মোস্তফা (৩৮), মোহাম্মদ সাইফুল (২৪), মোহাম্মদ হাসান (৩৯) এবং মোহাম্মদ হোসেন (৩৭)।

সংবাদ সম্মেলনে লে. কমান্ডার মো. তাওহিদুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চেকপোস্ট বসিয়ে বাইকার গ্যাং চক্রটির একজন সদস্যকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, পেছনে আরও সদস্য আসছে যাদেরকে রাস্তা ক্লিয়ারেন্স দিয়ে সে এগিয়ে আসছিল। পরবর্তী সময়ে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকি সদস্যদেরও চেকপোস্টের মাধ্যমে আটক করা হয়।

তিনি বলেন, মোট ৫টি মোটরসাইকেল ও ৬ জন আসামিকে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ৩ নম্বর স্পটে থাকা একটি স্কুটির সিটের ভেতর সুকৌশলে স্কচটেপ দিয়ে ১ লাখ পিস ইয়াবা ব্যাগভর্তি করে রাখা ছিল। ওপর থেকে সিট কভার না সরালে যা বোঝার কোনো উপায় ছিল না। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি টাকা।

র‍্যাব জানায়, চক্রটির সদস্যরা পর্যটকের বেশ ধরে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও রামু থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করত। এরপর রামুতে একত্রিত হয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী আগে-পিছে মোটরসাইকেল নিয়ে চট্টগ্রামের দিকে আসছিল। তাদের মধ্যে প্রথম দুজন সামনে কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেকপোস্ট আছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করছিল এবং পেছনে নিরাপদে ইয়াবা বহনকারী স্কুটিসহ অন্যান্য গাড়িগুলো নিয়ে আসা হচ্ছিল। তারা চট্টগ্রাম নগরী ও পটিয়ার বিভিন্ন স্থানে এগুলো সরবরাহ করতে আসছিল।

র‍্যাব-৭ এর কোম্পানি কমান্ডার বলেন, ‘আটক ব্যক্তিরা বিভিন্ন পেশার সঙ্গে জড়িত। কম সময়ে অধিক লাভের আশায় তারা এ মাদক কারবারে জড়িয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, এর আগে তারা ধরা পড়েনি। সুনির্দিষ্ট কোনো নাম বা কোনো ভুয়া আইডি কার্ড তারা ব্যবহার করছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া কয়েকটি মোটরসাইকেলের নিবন্ধন নম্বর না থাকায় কিছু জটিলতা রয়েছে, তা যাচাই করা হচ্ছে।’

গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে এবং উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

এমআর/আরএফ