শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা, জীবন বিমা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের জন্য কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়নে লালফিতার দৌরাত্ম্য কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ লক্ষ্যে চলতি মাসেই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীতে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) এবং গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
শ্রমমন্ত্রী ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিষ্ঠিত ও আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানগুলো যখন শ্রমিকদের কল্যাণে এগিয়ে আসছে, তখন সরকারও তাদের পাশে থাকবে। সরকার ও বেসরকারি খাত আন্তরিকভাবে একসঙ্গে কাজ করলে দেশের সব শ্রমিককে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা সম্ভব।
তিনি বলেন, সমস্যা অর্থের নয়, বরং উদ্যোগ ও প্রশাসনিক জটিলতার। অপ্রয়োজনীয় নীতি-নিয়ম ও লালফিতার কারণে অনেক ভালো উদ্যোগ বাস্তবায়ন ব্যাহত হয়। এসব বাধা দূর করতে হবে।
খুব শিগগির বিকেএমইএ, গার্ডিয়ান লাইফ এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের নিয়ে মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করবেন। সেখানে শ্রমিকদের জন্য কীভাবে আরও বিস্তৃত স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হবে।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দেশের শ্রমিকরাই প্রকৃত সম্পদ। তাদের শ্রম ও মেধা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়নে অবদান রাখছে। দেশে যদি তাদের জন্য উন্নত চিকিৎসা, নিরাপদ বাসস্থান এবং সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা যায়, তাহলে বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতাও কমবে এবং দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়বে।
সাধারণ শ্রমিকদের দাবি খুব বেশি নয়। তারা একটি ভালো বাসস্থান, উন্নত চিকিৎসা এবং সন্তানদের লেখাপড়ার সুযোগ চান। সরকার ও শিল্পমালিকরা সম্মিলিতভাবে এসব মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারলে দেশের সামগ্রিক চিত্র বদলে যাবে এবং শ্রমিক অসন্তোষও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের ‘লেবার’ হিসেবে নয়, দেশের সম্পদ হিসেবে দেখতে হবে। কারণ শ্রমিক ছাড়া কোনো শিল্প চলতে পারে না। তাই তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও শিল্পমালিক উভয়ের দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে গার্ডিয়ান লাইফের স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগের প্রশংসা করে শ্রমমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের উদ্যোগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে অপপ্রচার হতে পারে। তবে শ্রমিকদের বৃহত্তর স্বার্থে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, বিকেএমইএ, গার্ডিয়ান লাইফ এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দ্রুত বৈঠকের আয়োজন করতে হবে, যাতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার পথ নির্ধারণ করা যায়।
এ সময় শ্রম কল্যাণ তহবিলের অর্থ ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা আনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতার পর থেকে শ্রম কল্যাণ তহবিলে কত অর্থ জমা হয়েছে, কত অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং কত প্রতিষ্ঠান নিয়মিত অর্থ জমা দিচ্ছে এসব তথ্যের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রয়োজন। এই খাতে কী পরিমাণ অর্থ রয়েছে এবং কোন কোন খাতে তা ব্যয় হয়েছে, দেশের মানুষও তা জানার অধিকার রাখে।
শ্রমমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কারও বিরাগভাজন হতে হলেও তিনি পিছপা হবেন না। যতদিন দায়িত্বে থাকবেন, ততদিন জনগণ ও শ্রমিকদের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তিনি শ্রমিক কল্যাণে সরকার, শিল্পমালিক ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
এমএমএইচ/বিআরইউ
