৫ আগস্টের গণ–অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে পুলিশের মনোবল যখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে এবং সদস্যরা নতুন উদ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ফিরছেন, তখন পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।
সংগঠনটির দাবি, দেশের বাইরে অবস্থানরত বিভিন্ন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও নামধারী সাংবাদিকের কাছে মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করে পুলিশকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে।
রোববার (৯ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ করে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে পুলিশের ভেতরকার মনোবল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। বাহিনীর সদস্যরা নতুন উদ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব পালনে ফিরে এসেছেন। ঠিক এ সময়ে পলাতক ও আত্মগোপনে থাকা ‘ফ্যাসিস্ট শক্তি’ এবং কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিত অপপ্রচারণায় লিপ্ত হয়েছে বলে সংগঠনটির দাবি।
পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশের বাহিরে ও অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা এসব গোষ্ঠী ও তাদের অনুসারীরা দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও নামধারী সাংবাদিকের কাছে মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করছেন। এসব তথ্যের সত্যতা, প্রেক্ষাপট ও যথার্থতা যাচাই না করে কথিত সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা নানা মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর গল্প তৈরি করে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রচার করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
সংগঠনটি বলছে, এ ধরনের অপতথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা ক্রমেই ব্যক্তিবিশেষ থেকে শুরু করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কুৎসা ও অপপ্রচারের রূপ নিচ্ছে। এর ফলে দায়িত্ব পালনে ফিরে আসা পুলিশ সদস্যদের মনোবল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর কর্মস্পৃহা ও কর্মক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
গণ–অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশের মনোবল ও পেশাগত সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপতথ্য, ভুয়া ও কুৎসামূলক প্রচারণার মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার চেষ্টা শুধু বাহিনীকেই নয়, রাষ্ট্র, দেশের জনগণ এবং একটি স্বাভাবিক, স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রত্যাশাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মনে করে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীগত স্বার্থ কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য একটি সুশৃঙ্খল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে দায়িত্বহীন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অংশ হতে পারে না। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ড মন্ত্রণালয়ের স্বাধীনতার অংশ হতে পারে না বলেও মন্তব্য করা হয়েছে। সংগঠনটির মতে, পেশাগত নৈতিকতা, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ এবং একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার, বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং পুলিশ বাহিনীকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল ও বিতর্কিত করার প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
পাশাপাশি রাষ্ট্র, জনগণ ও পুলিশ বাহিনীর স্বার্থে এসব অপতৎপরতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে শনাক্ত করে প্রচলিত আইন, বিধি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অনুযায়ী কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের পাশাপাশি তাদের কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট যে–কোনো ব্যক্তিকেও পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি বিনষ্ট এবং আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এমএসি/জেআই
