প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন বলেছেন, ফলাফল ভালো করুক, খারাপ করুক, প্রত্যাশিত করুক বা অপ্রত্যাশিত করুক, আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাব।
তিনি বলেন, যে শিক্ষার্থী যেভাবে পড়াশোনা করেছেন তাদেরকে সেভাবেই মূল্যায়ন করা হয়েছে। এখানে ভালো মন্দের দিকে না তাকিয়ে যে শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করেছে তাদেরকে আমাদের সবার অভিনন্দন জানানো উচিত। শুভেচ্ছা জানানো উচিত। তাদের পরিবার গর্বিত, আমরাও গর্বিত। আবার অনেকে আছে হয়তো ভালো ফলাফল করেনি, তাদের জন্য এটাই যে জীবনের সবকিছু শেষ তা নয়। আমরা চাই যারা ভালো ফলাফল করেছে তারা যেমন পরিশ্রমের স্বীকৃতি পেয়েছেন, যারা হয়তো তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পায়নি, সরকার একইভাবে একই সঙ্গে তাদের পাশে থাকবে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে এসএসসি ও সমমানের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, আমরা গঠনমূলকভাবে পাশে দাঁড়াই, যে প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো করেছে তাদেরকে প্রেরণা জোগাই। আর যেসব ক্ষেত্রে ঘাটতি আছে আমরা সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে তাদেরকে আরো কীভাবে এগিয়ে দেওয়া যায়। যেখানে যে সমস্যাগুলো রয়েছে তা সমাধান কীভাবে করা যায়? গুণগত মান কীভাবে উন্নয়ন করা যায়, সেভাবে এগিয়ে যাই।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের সময় পুরো রাষ্ট্র ভেঙ্গে গিয়েছিল। সবচাইতে বেশি ধ্বংসপ্রাপ্ত যে খাত সেটা শিক্ষা ব্যবস্থা। আমরা তো সেখান থেকে সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন, সংযোজন, বিয়োজন এবং সংস্কার করছি। আমাদের অ্যাকাডেমিক কারিকুলামে তারপরও আমাদের আগামী শিক্ষাবর্ষে আমাদের সব পরিবর্তন একেবারে করা সম্ভব হবে না। নতুন বছরে আমরা বেশ কিছু কারিকুলাম চেঞ্জ করছি। চারটা নতুন বই আমরা এড করছি। বাংলাদেশের তৃণমূল থেকে ঢাকা পর্যন্ত এক প্লাটফর্মে এসে বেশ কিছু কম্পিটিশন করেছি। ২২ লক্ষ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ, আমরা ফুটবল টুর্নামেন্ট দেখেছি। প্রাথমিক পর্যায়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা আমরা দেখেছি ইনোভেশন স্টার্টআপস কম্পিটিশন দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। একদম ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস টু পর্যন্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমরা বৃক্ষরোপণ করেছি, এর পাশাপাশি শিক্ষকদের ট্রেনিং কীভাবে বাড়ানো যায়, সুযোগ-সুবিধা কীভাবে বাড়ানো যায়। শিক্ষা কার্যক্রমে কীভাবে আমরা ক্রীড়া সংস্কৃতি সন্নিবেশ করতে পারি? শিক্ষা কার্যক্রমে টেকনোলজিকাল ইন্টিগ্রেশন কীভাবে করা যায়? এগুলো নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্ব এবং নির্দেশনা আমাদের চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্বাভাবিকভাবে ১৬ বছরে ভেঙে পড়া রাষ্ট্র কাঠামো হয়তো পাঁচ বা ছয় মাসে আমল পরিবর্তন সম্ভব না। কিন্তু আমাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা রয়েছে। সবার সর্বোচ্চ সহযোগিতা রয়েছে এবং সামনের দিনগুলোতে আমাদের বহুপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে, ডায়ালগ কনসালটেশনের মাধ্যমে ইনশাল্লাহ যে প্রত্যাশিত পরিবর্তন সেগুলো আমরা নিশ্চিত করব।
মাহদী আমিন বলেন, আমাদের যারা শিক্ষার্থী রয়েছেন তাদেরকে আপনারা হাইলাইট করুন। যারা ভালো ফলাফল করেছেন তাদেরকে অনুপ্রেরণা দেন। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভালো ফলাফল দিয়েছে তাদের স্বীকৃতি দেন এবং যে সরকারের সমস্যা আছে, সেগুলো আমরা একসঙ্গে আইডেন্টিফাই করি এবং একসঙ্গে সবাই মিলে সমাধান করব ইনশাআল্লাহ।
এএএম/জেআই
