প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও হকারদের দখলে চলে গেছে নগরের ফুটপাতগুলো। উচ্ছেদের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় পুরোনো রূপে ফিরেছে ব্যস্ততম এলাকাগুলো। এতে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ পথচারীরা।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে চার দিন আগে থেকেই ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সাঁড়াশি অভিযান চালায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। ওই সময় কাজীর দেউড়িসহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতে থাকা অর্ধশতাধিক অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। নতুন রং ও তুলির আঁচড়ে সাজানো হয় পুরো এলাকা, যা নগরবাসীর মাঝে ব্যাপক স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছিল।
তবে সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরের পর থেকেই দৃশ্যপট পাল্টাতে শুরু করে। দুপুরের পর থেকে কাজীর দেউড়ি এলাকায় আবারও ফুটপাতের ওপর দোকানপাট খুলে বসতে শুরু করেন হকাররা।

বিকেল তিনটার দিকে সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আগের নিয়মেই ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন হকাররা। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে ক্ষোভ ও আশঙ্কার কথা জানান হকাররা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক হকার বলেন, পেটের দায়ে আমাদের ফুটপাতে বসতে হয়। কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করে হঠাৎ উচ্ছেদ করলে পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। এখান থেকে আমাদের বারবার উচ্ছেদ করা হয়, স্থায়ীভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ফলে আমাদের ঘুরেফিরে এখানেই আসতে হয়। আমরা প্রশাসনকে বলতে চাই, স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে যেন এভাবে হঠাৎ পেটে লাথি মারা না হয়।

ফুটপাত পুনরায় দখল হয়ে যাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ পথচারীরা। পথচারী মো. জাহেদ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় ফুটপাতগুলো কী সুন্দর পরিপাটি ছিল, হেঁটে অনেক ভালো লেগেছিল। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই আবার সেই পুরোনো জ্যাম ও জঞ্জাল শুরু হয়ে গেছে। এভাবে চললে সাধারণ মানুষের হাঁটার অধিকার চিরদিনই ক্ষুণ্ন হবে।
আরেক পথচারী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, প্রতিদিন দুপুরের পর সন্ধ্যা গড়াতেই এখানে অবৈধভাবে বসানো দোকানগুলো মানুষের ভিড় জমে। ফলে ফুটপাতে চলাচল করা যায় না। রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এদিকে সিটি করপোরেশন বলছে, তারা দীর্ঘ দিনের অযত্ন ও অব্যবস্থাপনার চিত্র পেছনে ফেলে নান্দনিক সৌন্দর্যে নতুন রূপে তৈরি করতে চায় নগরের গুরুত্বপূর্ণ কাজীর দেউড়ি মোড়। সার্কিট হাউজের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকায় সেখানে নিয়মিত তদারকি করা হবে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহনের চলাচলে ব্যস্ত এই এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে তাদের অভিযান ও তদারকি অব্যাহত থাকবে।
নগরবাসীর দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি ও হকারদের জন্য সুনির্দিষ্ট বিকল্প ব্যবস্থার পরিকল্পনা না থাকলে এ ধরনের সাময়িক উচ্ছেদ অভিযান কোনো স্থায়ী সুফল বয়ে আনবে না।
এমআর/এসএএস
