বিজ্ঞাপন

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা গভর্নিং বডির হাতে ফেরানোর উদ্যোগে শিবিরের প্রতিবাদ

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা গভর্নিং বডির হাতে ফেরানোর উদ্যোগে শিবিরের প্রতিবাদ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা পুনরায় স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

সংগঠনটি বলছে, দেশের শিক্ষাখাত নানা সংকটে জর্জরিত থাকা অবস্থায় নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য আত্মঘাতী ও নীতি বিবর্জিত সিদ্ধান্ত হবে।

সোমবার (১০ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে এ উদ্বেগের কথা জানান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ।

বিবৃতিতে তারা বলেন, একটি মেধাভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও উন্নত রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রধান শর্ত মানসম্মত ও নৈতিকতাসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা। আর মানসম্মত শিক্ষার মূল কারিগর যোগ্য শিক্ষক। অতীতে স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক আধিপত্য এবং জাল সনদের অভিযোগ ছিল। এসব থেকে উত্তরণের লক্ষ্যেই বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসরণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, বর্তমান নীতিনির্ধারকদের এমন একটি ‘অন্ধকার যুগে’ ফিরে যাওয়ার চিন্তা কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

তারা আরও বলেন, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের বর্তমান পদ্ধতিতে দূরবর্তী কর্মস্থলে পদায়ন কিংবা প্রশাসনিক ধীরগতির মতো কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা থাকতে পারে। তবে এসব সমস্যার সমাধান নিয়োগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সুনির্দিষ্ট বদলি নীতিমালা প্রণয়ন এবং মেধাক্রম অনুযায়ী দ্রুত নিয়োগের মাধ্যমে করা সম্ভব।

তাদের ভাষ্য, এসব সমস্যা সমাধান না করে শিক্ষক নিয়োগের মূল ক্ষমতা পুনরায় স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হলে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে মেধাবী প্রার্থীরা বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের পথও বাধাগ্রস্ত হবে।

বিবৃতিতে শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও মেধাভিত্তিক করার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নের স্বার্থে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের স্থানীয় প্রভাব বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ রাখা উচিত নয়।

জেইউ/জেআই 

বিজ্ঞাপন