বিজ্ঞাপন

তারেক রহমানের সাংগঠনিক সভায় প্রবেশ কার্ড না পেয়ে ক্ষোভ

তারেক রহমানের সাংগঠনিক সভায় প্রবেশ কার্ড না পেয়ে ক্ষোভ

চট্টগ্রামে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক সভায় প্রবেশের জন্য কার্ড না পাওয়াকে কেন্দ্র করে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। নগরের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত এ সভায় দীর্ঘদিন ধরে মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা অনেক নেতা প্রবেশের সুযোগ পাননি। যদিও সাংগঠনিকভাবে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে দলীয় পদ-পদবি নেই—এমন ব্যক্তিদের কার্ড দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

তাদের দাবি, প্রায় ৭০০ নেতাকর্মীকে সভায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও কারা কীভাবে কার্ড পেয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। এ কারণে সভায় অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ, কার্ড বিতরণের প্রক্রিয়া যাচাই এবং কোনো অনিয়ম বা পক্ষপাত হয়ে থাকলে সাংগঠনিক তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে দল ও অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেক ব্যক্তি নির্দিষ্ট কিছু নেতার ঘনিষ্ঠতার সুবাদে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। অন্যদিকে দলের দুঃসময়ে রাজপথে থাকা অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পরও দলীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে উপেক্ষিত হচ্ছেন। তারেক রহমানের সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের এই সাংগঠনিক সভায় প্রবেশ কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক পদধারী এবং সাবেক জেলা ও মহানগর পর্যায়ের অনেক নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। তাদের কেউ কেউ কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কয়েকজন নেতার অনুসারীদের প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগও তোলেন। হাটহাজারী, পটিয়া, আনোয়ারা ও নগরের নির্দিষ্ট কয়েকজন নেতার অনুসারীরা তুলনামূলক বেশি কার্ড পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যারা দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন এবং রাজনৈতিক মামলা, হামলা ও গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন, তাদের অনেকেই সভায় প্রবেশের সুযোগ পাননি।

চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলী মুর্তজা খান বলেন, তার বিরুদ্ধে ১২৫টি মামলা হয়েছে এবং বছরের পর বছর কারাগারে কাটিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, দলের দুঃসময়ে ৭০০ জনের জায়গায় সাতজনও পেতাম না মিটিং, মিছিল, হরতালে। এখন ৭০০ জন যারা কার্ড পেয়েছে, তারা কারা? ক্ষমতা পাওয়ার পর দলের কিছু নেতা আত্মীয়করণ এবং আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশাও কার্ড বিতরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, রেডিসনে অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক সভায় যারা প্রবেশ কার্ড পেয়েছেন, তাদের নামের তালিকা প্রকাশ করা উচিত। আমি প্রবেশ কার্ড পেয়েছি, কিন্তু আমার অনেক সহযোদ্ধা পায়নি। এটা দুঃখজনক। তাই আমি সভাস্থলে যাইনি, প্রবেশ কার্ড না পাওয়াদের সঙ্গেই রয়েছি। রাজপথই আমার পছন্দ, সুবিধাবাদীদের সঙ্গে আমি নেই।

চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সভানেত্রী মনোয়ারা বেগম মনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, মহিলা দলের সিনিয়র অনেক নেত্রী কার্ড পাননি। অথচ সাংগঠনিকভাবে জুনিয়র এবং কোনো পদে না থাকা ব্যক্তিরাও প্রবেশ কার্ড পেয়েছেন। বিষয়টিকে তিনি দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হায়দার চৌধুরী বলেন, মামলা-হামলা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে তারা আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। অথচ দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের মাত্র দুজনকে প্রবেশ কার্ড দেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক সভায় শত শত ব্যক্তি অংশ নিয়েছেন, যাদের অনেকের কোনো দলীয় পদ-পদবি নেই।

ইকবাল হায়দার চৌধুরী আরও অভিযোগ করেন, আনোয়ারা উপজেলা থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন ব্যক্তিকেও সভায় অংশ নিতে দেখা গেছে। বিষয়টি রাজপথের নেতাকর্মীদের জন্য দুঃখজনক ও অপমানজনক। কার্ড বিতরণের পুরো প্রক্রিয়া সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করা উচিত। এর সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, কীভাবে তালিকা করা হয়েছে এবং কোন বিবেচনায় কাদের কার্ড দেওয়া হয়েছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখে অনিয়ম পাওয়া গেলে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের দাবি, সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়া প্রায় ৭০০ নেতাকর্মীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে কোন সাংগঠনিক ইউনিট বা নেতা কতজনকে কার্ড দিয়েছেন, সে বিষয়টিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এতে কার্ড বিতরণে কোনো অনিয়ম, পক্ষপাত বা স্বজনপ্রীতি হয়েছে কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।

তবে কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ নাকচ করেছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া। ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, সীমিতসংখ্যক লোককে আমরা কার্ড দিয়েছি। কারণ অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নির্ধারিত ছিল। অনেক নেতা কার্ড পাননি, এটা সত্য। সবাইকে তো আর কার্ড দেওয়া সম্ভব নয়। তবে আমরা যাদের দিয়েছি, তাদের নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই।

কার্ড বিতরণ নিয়ে মহানগর বিএনপির অবস্থানও ব্যাখ্যা করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজিমুর রহমান। ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, আমরা মহানগর কমিটির পক্ষ থেকে ১ থেকে ৩৩৫ জনকে কার্ড দিয়েছি। এই তালিকার মধ্যে কোনো সমস্যা থাকলে তার দায়ভার আমরা নেব।

তবে মহানগর বিএনপির এই তালিকার বাইরে আরও কয়েকটি পক্ষ কার্ড দিয়েছে বলে জানান নাজিমুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের বাইরে উত্তর ও দক্ষিণ জেলা কার্ড দিয়েছে। এছাড়া আমাদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম ভাইসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা কার্ড দিয়েছেন। তারা কাদের দিয়েছেন, আমরা বলতে পারব না।

এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এমআর/এমএন