বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামে ১৫ দিনে গবাদিপশুকে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা, দেওয়া হয়েছে অর্ধেক

চট্টগ্রামে ১৫ দিনে গবাদিপশুকে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা, দেওয়া হয়েছে অর্ধেক

বন্যাকবলিত চট্টগ্রামে ১৫ দিনের মধ্যে শতভাগ গবাদিপশুকে এফএমডি (ক্ষুরা রোগ) প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের আওতায় আনার ঘোষণা দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। এখন পর্যন্ত আক্রান্ত এলাকার প্রায় অর্ধেক গবাদিপশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়।

বন্যার পর গবাদিপশুর মধ্যে রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকানো এবং খামারিদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়। তবে জনবল, টিকার মজুদ ও মাঠপর্যায়ে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে মন্ত্রীর ঘোষিত ১৫ দিনের মধ্যে শতভাগ পশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলার ১০৮টি ইউনিয়ন বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এসব এলাকায় বিপুলসংখ্যক গবাদিপশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫১ হাজার ৮২৪টি গবাদিপশুকে ক্ষুরা রোগের টিকা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৫০ হাজার ৯৮২টি গবাদিপশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত এলাকায় আক্রান্ত গবাদিপশুর মধ্যে বাঁশখালীতে ৫৬ হাজার গরু ও ৯০টি মহিষ, সাতকানিয়ায় ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৬০টি গরু, সন্দ্বীপে ৪ হাজার ১২৫টি গরু ও ১১৮টি মহিষ, আনোয়ারায় ৩ হাজার ৬৪৩টি গরু ও ২৯৬টি মহিষ, ফটিকছড়িতে ১ হাজার ২৩০টি, রাউজানে ২ হাজার ২৮০টি, রাঙ্গুনিয়ায় ২ হাজার ৫৬৬টি, হাটহাজারীতে ৫ হাজার ৬২০টি, কর্ণফুলীতে ৭ হাজার ১৩০টি, বোয়ালখালীতে ৪ হাজার ৩২০টি, পটিয়ায় ৭ হাজার ৮২০টি গরু ও ১১৭টি মহিষ, সীতাকুণ্ডে ১ হাজার ১২০টি, মীরসরাইয়ে ১ হাজার ৪০০টি, চন্দনাইশে ৭ হাজার ৮৩০টি গরু ও ১৫০টি মহিষ এবং লোহাগাড়ায় ৯ হাজার ৮৪০টি গবাদিপশু আক্রান্ত হয়েছে।

এদিকে গত ১৮ জুলাই চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বন্যাকবলিত চট্টগ্রাম অঞ্চলের খামারিদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গবাদিপশুর ভ্যাকসিন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথা জানান।

ওই সময় মন্ত্রী নির্দেশ দেন, ১৫ দিনের মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকার শতভাগ গবাদিপশুকে এফএমডি বা ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে হবে। ছয় মাস আগে যেসব পশুকে টিকা দেওয়া হয়েছিল, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সেগুলোকেও পুনরায় টিকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে মন্ত্রীর ঘোষণার ১৫ দিনের সময়সীমা পার হলেও এখনো অর্ধেকের মতো গবাদিপশু টিকার আওতায় এসেছে।

তবে উপজেলা পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বলছেন, অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক গবাদিপশুকে টিকার আওতায় আনা কঠিন। প্রয়োজনীয় জনবল ও টিকার মজুদের সীমাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত সময়ে শতভাগ টিকাদান সম্ভব হয়নি। তবে কার্যক্রম চলমান থাকলে পর্যায়ক্রমে সব গবাদিপশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

প্রান্থিক খামারিরা বলছেন, বন্যার পর গবাদিপশুর রোগবালাই বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করার ওপর জোর দিচ্ছেন খামারিরা। তাদের মতে, সময়মতো টিকা না দেওয়া হলে ক্ষুরা রোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে গবাদিপশুর মৃত্যু ও উৎপাদন কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে বন্যার ক্ষতির সঙ্গে নতুন করে আর্থিক সংকটে পড়তে পারেন খামারিরা।

চন্দনাইশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফেরদৌসী আক্তার ঢাকা পোস্টকে বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার গরুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ১৪টি ক্যাম্প করা হয়েছে। বন্যার পর বিপুলসংখ্যক পশুকে চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছে। সরকারিভাবে ৮৩০ বস্তা গোখাদ্য দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বেসরকারিভাবে ২৮৬ বস্তা গোখাদ্য দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা ডেইরি অ্যান্ড ফ্যাটেনিং ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, মন্ত্রী মহোদয় একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। সেটি বাস্তবায়নে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও আন্তরিক হতে হবে। পাশাপাশি তদারকি বাড়াতে হবে এবং খামারিদের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

তিনি বলেন, এভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করলে সব গবাদিপশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে। অন্যথায় বড় একটি অংশ টিকার বাইরে থেকে যাবে। এর ক্ষতিকর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর ঢাকা পোস্টকে বলেন, মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ গবাদিপশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, টিকাদান কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকার শতভাগ গবাদিপশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

এমআর/আরএফ