পরিবারের ভূমিকার কথা তুলে ধরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেছেন, আগে পরিবারের প্রতি সন্তানের জবাবদিহিতা ছিল বেশি। সন্ধ্যার পর বাড়ি ফিরতে দেরি হলে সন্তানকে নানা প্রশ্নের জবাব দিতে হতো। পকেটে অতিরিক্ত টাকা পাওয়া গেলেও বাবা-মা জানতে চাইতেন, টাকা কোথা থেকে এসেছে। এখন সেই পারিবারিক শাসন ও জবাবদিহিতা অনেকটাই কমে গেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে মাদক ও ইন্টারনেটে আসক্তি, ক্যারিয়ার নির্বাচনে বিভ্রান্তি : সমাধানের যে পথে শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
তরুণদের মাদক ও ইন্টারনেট আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, পাঠাগার, পাঠচক্র ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আবদুস সালাম বলেন, এলাকায় পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, খারাপ আড্ডার পরিবর্তে পাঠচক্র করতে হবে। রবীন্দ্রজয়ন্তী ও নজরুল জয়ন্তীর মতো সাংস্কৃতিক আয়োজনও এলাকায় করা দরকার।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বর্তমান প্রজন্মের ওপর নির্ভর করছে। মেধাবী তরুণেরা বিদেশে চলে গেলে দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবেসে মেধাকে দেশের কাজে লাগাতে হবে।
প্রশাসক বলেন, মেধার কোনো বিকল্প নেই। যারা ভালো বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, চিকিৎসক ও অন্যান্য পেশাজীবী হতে পারে, তাদের দেশেই থেকে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু পুলিশি ব্যবস্থা দিয়ে মানুষকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সামাজিক সংগঠন ও পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ দিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। পুলিশ দিয়ে ভালো মানুষ তৈরি করা যায় না। বরং একবার পুলিশের খপ্পরে পড়লে সে আরও খারাপ হয়ে বের হয়ে আসতে পারে। তাই সামাজিক সংগঠনগুলোর দায়িত্ব অনেক বেশি।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে প্রথমে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নিজের ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে মাদক, ইন্টারনেট আসক্তি ও অন্যান্য ক্ষতিকর বিষয় থেকে দূরে থাকতে হবে। তার ভাষায়, ‘যে নিজেকে জয় করতে পেরেছে, পৃথিবীতে মহামানব তারাই হয়েছে।’
আবদুস সালাম বলেন, প্রতিটি মানুষের জীবনে একটি লক্ষ্য থাকা প্রয়োজন। লক্ষ্যহীন জীবন মানুষকে হতাশার দিকে নিয়ে যায়। পরীক্ষায় ব্যর্থতা বা জীবনের কোনো বাধাকে চূড়ান্ত ব্যর্থতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। হতাশা থেকে অনেক সময় মানুষ মাদকসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর আসক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে।
সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত সেমিনার, কর্মশালা ও আলোচনা আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসব আয়োজনের মাধ্যমে একজন মানুষও যদি নিজের জীবন পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলেও তা সমাজের জন্য বড় অর্জন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আপনি নিজে সুস্থ থাকলে আপনার পরিবার সুস্থ থাকবে, পরিবার সুস্থ থাকলে সমাজ সুস্থ থাকবে। আর সমাজ সুস্থ থাকলেই রাষ্ট্র এগিয়ে যাবে।
এএসএস/আরএফ
