চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় এক প্রবাসীর বাড়িতে রাতে তালা কেটে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদল পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও হাত-পা বেঁধে সাড়ে ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ আড়াই লাখ টাকা এবং দুইটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে গেছে। এ সময় বাধা দেওয়ায় ঘরের এক বৃদ্ধ গৃহকর্তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পূর্ব হিঙ্গুলী গ্রামের প্রবাসী নুরুল আলমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে ১৫ থেকে ২০ জনের একদল সশস্ত্র ডাকাত নুরুল আলমের বসতবাড়িতে হানা দেয়। ডাকাতদলটি ঘরের বারান্দার তালা ও দরজা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা নুরুল আলমের সিঙ্গাপুরপ্রবাসী ছেলে গিয়াস উদ্দিন ও কাতারপ্রবাসী নুরউদ্দিনের ঘরে ঢুকে স্বজনদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে আলামারি ও ওয়্যারড্রব ভেঙে সাড়ে ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ আড়াই লাখ টাকা ও দুইটি মোবাইল ফোন লুট করে নেয়।
লুটপাটে বাধা দিতে গেলে ডাকাতরা বৃদ্ধ নুরুল আলমকে (৭০) ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে এবং মাথায় অস্ত্র ধরে রাখে। পরে চিৎকার-চেঁচামেচিতে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে ডাকাতদল দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় নুরুল আলমকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কাতারপ্রবাসীর স্ত্রী সাহেলা আক্তার সুমি বলেন, আমরা সবাই ঘুমে ছিলাম। বেলকনির দরজা ভেঙে ডাকাতরা ঘরে ঢোকে। তারা আমাকে বেঁধে ফেলে এবং আমার ছেলে-মেয়েকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বলে, ‘যা আছে সব দিয়ে দে’। এরপর আমার শ্বশুর বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করে। ঘরের সব জিনিসপত্র এলোমেলো করে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।
সিঙ্গাপুরপ্রবাসীর স্ত্রী কোহিনুর বেগম জানান, ডাকাতদের প্রত্যেকের হাতেই আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো ছুরি ছিল। মুখ ঢাকা থাকায় কাউকে চেনা না গেলেও কথার টোনে তাদের স্থানীয় বাসিন্দা বলে মনে হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বৃদ্ধ নুরুল আলম বলেন, আমাদের বাড়িতে আমি ছাড়া কোনো পুরুষ নেই, ছেলেরা সবাই প্রবাসে থাকে। এই সুযোগেই অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে সব লুটে নিল।
খবর পেয়ে জোরারগঞ্জ থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, ঘটনার পর পরই পুলিশের একাধিক টিম তদন্তে নেমেছে। কে বা কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই ঘটনার রহস্য উন্মোচন ও জড়িয়ে থাকা ডাকাত দলকে গ্রেপ্তার করতে পারব।
এমআর/এসএএস
