বিজ্ঞাপন

পর্যটন প্রতিমন্ত্রী

পর্যটনের হোটেল-মোটেলে আজীবন ৩৬ শতাংশ ছাড় পেতে পারেন জুলাই যোদ্ধারা

পর্যটনের হোটেল-মোটেলে আজীবন ৩৬ শতাংশ ছাড় পেতে পারেন জুলাই যোদ্ধারা

বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের সব হোটেল-মোটেলে আজীবন ৩৬ শতাংশ ছাড় পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

তিনি বলেন, পর্যটনের চেয়ারম্যান যেহেতু একটা ডিক্লারেশন দিয়েছেন, জুলাই যোদ্ধাদের জন্য বা আজীবন তাদের পরিবারের জন্য তারা যাতে আমাদের হোটেল, মোটেলে ৩৬ শতাংশ ডিসকাউন্টে সারা জীবনের জন্য এই ডিসকাউন্টটা পায়। এই জন্য আমি মন্ত্রীকেও বলব, তিনি যাতে এনডোর্স করেন। এবং সেক্রেটারি আছেন, তারা যাতে একে এনডোর্স করেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর পর্যটন কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান ও আলোচনা’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

পর্যটন প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকে আমাদের মন্ত্রণালয়ের আমরা সবাই আছি, মন্ত্রী আছেন, আমি আছি, সেক্রেটারি সাহেব আছেন। আমরা যদি এমন করতে পারি যে, তাদের বিনামূল্যে যদি কিছু প্রশিক্ষণ দিতে পারি, যেমন আমরা কিছু প্রশিক্ষণ দিই– ট্যুরিজম, হোটেল ম্যানেজমেন্ট, শেফ তৈরি করা। এগুলো জন্য কিন্তু আমাদের জায়গা আছে, আমরা এটা তৈরি করে থাকি, ট্রেনিং দিই। সেগুলি আমরা বিনামূল্যে জুলাইয়ে যারা আহত যারা আছে, তাদেরকে যদি দিতে পারি, সেটা আমি মনে করি আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে অ্যাডেড ভার্সন হবে, একটা তাদের জন্য কিছু করা হবে।

তিনি বলেন, সেই সঙ্গে পর্যটন স্পটগুলোতে আমাদের কিন্তু কিছু কিছু স্পট আছে, টাকা লাগে, ঢুকতে টিকিট লাগে। তাদের জন্য টিকিটগুলো যদি ফ্রি করে দেওয়া হয়, তারা তো সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছেন, এই দেশটাকে বাঁচিয়েছেন। সেজন্য তাদের এই প্রস্তাবটা আমি রাখতে চাই। এবং আপনারা যারা এখানে আছেন, উদ্যোক্তা আছেন, অনেকেই ব্যবসায়ী আছেন এবং আমাদের কর্মকর্তারা যারা আছেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমার সামনে বসে আছেন, আপনাদের অনেক সুযোগ আছে চাকরি দেওয়ার। আপনার সেকেন্ড ক্লাস, থার্ড ক্লাস, ইভেন ফোর্থ ক্লাসে– কিছু কর্মচারী যারা আহত হয়েছে, তাদেরকে যদি কিছু চাকরি দেওয়া যায় অথবা আমাদের যে শহীদ পরিবারের আত্মীয়স্বজনদের যদি একটু চাকরিতে দেওয়ার জন্য একটু ফ্যাসিলিটেট করা যায়, তাহলে আমাদের মন্ত্রণালয়টা একটা শান্তি পাবে যে, আমরা শহীদ পরিবারের জন্য বা যোদ্ধাদের জন্য কিছু করেছি।

পর্যটন প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এগুলো হয়তো আমরা পরবর্তীতে আলোচনা করে, মন্ত্রণালয়ে আলোচনা করে, তারপরে আমরা হয়তো ক্যাবিনেটে নিলাম। এই পর্যায়গুলি আমরা করতে পারি। এই উদ্যোগগুলো নিলে তাদেরকে সারাজীবন মনে রাখা হবে, তাদের জন্য কিছু করা হবে।

রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ৭১-এর স্বাধীনতার মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়, ২৪-এর, এটা মনে হয় ঠিক না। আমি বলি এইভাবে, ৭১-এ মুক্তিযোদ্ধারা দেশকে স্বাধীন করেছেন এবং ২৪-এর জুলাইয়ের যোদ্ধারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছেন। এই সার্বভৌম দেশকে যদি ২৪-এর জুলাইয়ের যোদ্ধারা রক্ষা না করতেন, আমাদের সার্বভৌমত্ব থাকত না। এতদিন এটা একটা হাত চলে গিয়েছিল, আপনারা সবাই তা উপলব্ধি করতে পারেন। তার থেকে আমরা পরিত্রাণ পেয়েছি। অতএব, আমি বলতে চাই, স্বাধীনতা যুদ্ধে ৭১-এ যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতি যেমন শ্রদ্ধা দেশকে স্বাধীন করার জন্য, আমাদের আরও বেশি শ্রদ্ধা ২৪-এর যোদ্ধাদের জন্য, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য। কারণ, সার্বভৌম দেশ না হলে স্বাধীনতার কোনো মূল্য থাকে না। সেই কারণে আমি আমার তরফ থেকে সারাজীবন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা থাকবে। আমি যতদিন বেঁচে থাকব।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান।

এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন শহীদ ওয়াসিম আকরামের পিতা শফিউল আলম, শহীদ আফিকুল ইসলাম সাদের বাবা মো. শফিকুল ইসলাম, শহীদ জোবায়ের আহমেদের স্ত্রী মোছা. মারজিনা আক্তার, জুলাই যোদ্ধা সানজিদা আহমেদ তন্বী প্রমুখ।

এমএইচএন/বিআরইউ