১২৫০ নম্বরের পরীক্ষায় ১২২১ পেয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে সবার ওপরে স্থান অধিকার করেছেন চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাদমান ইসলাম। শুধু একটি ফল নয়, এই চূড়ায় ওঠার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ প্রস্তুতি ও নিয়মিত পড়াশোনার ওপর অটুট বিশ্বাস। মেধা ও পরিশ্রমের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই অভাবনীয় সাফল্যের গল্প জানিয়েছেন সাদমান নিজেই।
সাদমান জানান, মহান আল্লাহ তাআলা যদি রহমত না করতেন, তাহলে আসলে আজকে এ ধরনের ফলাফল কখনোই সম্ভব ছিল না। সেই সঙ্গে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তার বাবা-মায়ের প্রতি। খুব সাধারণ একটি রুটিন বা স্কেডিউল মেইনটেইন করতেন তিনি। বিশেষ করে, তার এমন কোনো রুটিন ছিল না যে প্রতিদিন একবারে ১৫-২০ ঘণ্টা পড়তে হবে।
শুধু পাঠ্যবইয়ের পাতায় আটকে থাকা নয়, জ্ঞান অর্জনের পরিধি হতে হবে আরও বিস্তৃত। পাঠ্যবইয়ের বাইরের জ্ঞানও সাফল্যের পথে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বোর্ডসেরা সাদমান।

টেক্সটবুকের বাইরে আসলে ভালো করা সম্ভব না, টেক্সটবুক পড়তেই হবে উল্লেখ করে সাদমান জানান, তার মতে শুধু টেক্সটবুক পড়লেই হয় না, কিছু জিনিস আছে যেগুলো স্ট্র্যাটেজি বিল্ডআপ করতে হয়।
অসামান্য এই সাফল্যে আবেগাপ্লুত সাদমানের বাবা-মাও। ছেলের পড়াশোনায় কখনো শাসন, কখনো দিয়েছেন অনুপ্রেরণা। তবে মায়ের কথাই নাকি বেশি শুনতেন সাদমান। আর বোর্ডসেরা এই শিক্ষার্থীর ডিজিটাল জীবনও বেশ চমকপ্রদ। সাদমানের নেই কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আসক্তি।
মাঝে মধ্যে বকাঝকা তো দিতেই হতো উল্লেখ করে সাদমানের মা বলেন, মাঝে মধ্যে অনেক খারাপ লাগত ছেলেকে বকাঝকা দিচ্ছি। অনেক সময় মারতেও যেতাম যে তুই এটা কর না, এটাও বলতে হবে যে আমি মারতাম। তবে ছেলে আমার কথা শুনত। মোবাইলটা আমি দিতাম না। আমি সবাইকে বলব যে মোবাইল কিন্তু দেওয়া যাবে না।
সাদমানের পরবর্তী লক্ষ্য নটরডেম কলেজে ভর্তি হয়ে স্বপ্নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। ভবিষ্যতে সামনেv তো নটর ডেম কলেজের ভর্তি পরীক্ষা, তাই স্বপ্নের কলেজ নটর ডেম কলেজে যেন ভর্তি হতে পারেন, এমনটাই প্রত্যাশা তার।
সাফল্যের চূড়ায় আরেক মেধাবী মুখ রোজবাউদ্দীন রোহান
সাদমানের সঙ্গেই গলাগলুক করে সাফল্যের চূড়ায় আরেক মেধাবী মুখ—১২১৮ নম্বর পেয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন তারই বন্ধু রোজবাউদ্দীন রোহান।
রোহানের পড়ার টেবিলই যেন বলে দিচ্ছে তার পরিশ্রমের গল্প। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি পড়েছেন নানা ধরনের বই। তবে পড়াশোনায় ছিল না কোনো বাধা ধরার রুটিন। যখনই কোথাও নিজের দুর্বলতা বা ঘাটতি মনে হয়েছে, তখনই সেটি পূরণের চেষ্টা করেছেন।

বিজ্ঞান বিভাগের সাবজেক্টে শুধু পাঠ্যবই পড়লে পুরোপুরি জ্ঞান কভার হয় না উল্লেখ করে রোহান জানান, সত্যি কথা বলতে তার কোনোদিনই কোনো রুটিন সেভাবে ছিল না। যখন যেটা দরকার, হতো পরীক্ষা সামনে বা কোনো টেস্ট আছে, কিংবা যখন মনে হয়েছে একটু গ্যাপ রয়ে গেছে, সেটাকেই কভার করার চেষ্টা করেছেন।
প্রযুক্তিতেও দূরে রাখেননি রোহান। শিক্ষাক্ষেত্রে অনলাইন ক্লাস ও প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে ব্যবহার করেছেন ডিজিটাল ডিভাইস। তবে প্রযুক্তি যেন পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকেও ছিল সচেতন নজর।
সাদমানের মতো রোহানের স্বপ্নও এখন নটর ডেম কলেজে ভর্তি হয়ে শুরু করা নতুন অধ্যায়। ভবিষ্যতে মূলত ঢাকা নটর ডেম কলেজ, সেখানেই তার টার্গেট আছে এবং ইনশাআল্লাহ সেখানে ভর্তি পরীক্ষা দেবেন বলে জানান তিনি।
দুজনের চোখেই বড় স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নের প্রথম ধাপেই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের মেধাতালিকায় দুই বন্ধুর তাক লাগানোর মতো সাফল্য।
এমআর/এমএন
