বিজ্ঞাপন

বন্দরের এনসিটি ইজারা নিয়ে অর্থমন্ত্রী

‎দেশি-বিদেশি যারাই চালাক, দেশের স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে

‎দেশি-বিদেশি যারাই চালাক, দেশের স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা নিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বন্দর দেশি বা বিদেশি যার হাতেই থাকুক, জনগণ, ব্যবসায়ী, শিল্প ও দেশের অর্থনীতির স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে। বন্দর কে পরিচালনা করবে, সেটি সরকারের কাছে মুখ্য বিষয় নয়। যেই দায়িত্বে থাকুক, তাকে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে।

‎মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

‎চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে যৌথ কমিটি গঠনের কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, আমরা একসঙ্গে বসেছি। প্রায় অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। আগামী দিনে পোর্ট, কাস্টমস একসঙ্গে কাজ করতে পারে। এগুলো কার্যকর হয়ে যাবে। পোর্ট, কাস্টমস মিলে আগামী দিনে জয়েন্টলি নতুন ধারা সৃষ্টি হবে। যার মাধ্যমে ব্যবসায়ী, সরকার, দেশের জনগণ লাভবান হবে। ২০৩৪ সালে আমরা যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কথা বলছি, সেটির পথ সুগম হবে।

‎চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের মধ্যে ‘জয়েন্ট কমিটি’ গঠনের কথা জানিয়ে আমির খসরু বলেন, যেকোনো সমস্যা দুই পক্ষ একসঙ্গে বসে সমাধান করবে। তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশকে ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে স্থিতিশীল অর্থনীতিতে নেওয়া এবং অর্থনীতির টেকঅফ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অর্থনীতি চাঙা করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি ও শিল্পায়ন বাড়ানো এবং ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিষয় রয়েছে।

‎আমির খসরু বলেন, বন্দর ও কাস্টমস একসঙ্গে কাজ করলে পণ্য খালাস ও রপ্তানি কার্যক্রম কম সময়ে শেষ হবে। এতে ব্যবসায়ীদের খরচ কমবে, দক্ষতা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ওপর বিনিয়োগকারী ও আমদানিকারকদের আস্থা বাড়বে। দ্রব্যমূল্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বন্দরে অতিরিক্ত খরচ ও কাস্টমসের দীর্ঘসূত্রতার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। সরবরাহব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হলে পণ্যের খরচ বেড়ে যায় এবং সেই বাড়তি ব্যয় জনগণকেই বহন করতে হয়। এ খরচ যাতে ব্যবসায়ী বা জনগণের ওপর না পড়ে, সে লক্ষ্যেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‎এনসিটি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, যারাই পোর্ট চালাক, তাদের এগুলো মেনে জনগণের স্বার্থে, ব্যবসার স্বার্থে, ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে, বাংলাদেশের অর্থনীতির স্বার্থে একই পথে চালিত হতে হবে। পোর্ট কে চালাবে না চালাবে, এটি আমাদের বিষয় নয়। যখন যার হাতে পোর্ট থাকবে, সেটি দেশি হোক বা বিদেশি হোক, তাদের এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে।’

‎বন্ধ কারখানা চালুর প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, অর্থনীতিকে ইতিমধ্যে সরলীকরণ ও ডিরেগুলেশন করা হয়েছে। পাশাপাশি কর কমানো হয়েছে, যাতে শিল্পকারখানাগুলো ঘুরে দাঁড়াতে পারে। সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে বড় আকারে বিদেশি বিনিয়োগও আসছে বলে জানান তিনি।

‎এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কে কার সঙ্গে পরিচিত, এ সরকারের অধীনে এগুলো চলবে না। এসব পৃষ্ঠপোষকতার কোনো ব্যবসা আমরা করতে দেব না, সুযোগ নেই। যে যত বড় মন্ত্রী হোক, পাওয়ারফুল লোক হোক, সুযোগ নেই।’

‎এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বৈঠক প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, চট্টগ্রাম শুধু লজিস্টিকস হাবই হবে না, আগামী দিনে দেশের উন্নয়নের অগ্রপথিক হিসেবেও গড়ে উঠবে। তিনি জানান, এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ফিলিপাইন থেকে বাংলাদেশে এসেছেন। স্টেকহোল্ডারদের ডাকা হয়েছে এবং সবার কথা শোনা হবে। চট্টগ্রাম ও এ অঞ্চলের উন্নয়নে এডিবির বড় ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

‎আরএমএন/এনটি

বিজ্ঞাপন