রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে বোমা উদ্ধার ও সাভারের আশুলিয়ায় মুদি দোকানে ফেলে যাওয়া ভ্রমণব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি বোমা উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত দুজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
তাদের মধ্যে অন্যতম হোতা মোহাম্মদ আরিফ নামে একজনকে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে সাভারের একটি বাসায় অভিযান পরিচালনা করে গ্রেপ্তার করেছে সিটিটিসির একটি দল। পৃথক স্থানে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় মূল হোতা নাজমুল হাসান ওরফে বোমারু মামুনকে গ্রেপ্তারের চলছে অভিযান।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপি'র কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন।
সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় একটি মুদি দোকানে ফেলে যাওয়া ভ্রমণব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি একটি বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে সিটিটিসি'র বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে।
এর আগে গত ২৪ জুলাই রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে বোমা উদ্ধার করে সিটিটিসি। ওই ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে। একই সঙ্গে বোমার উৎস, কারা এটি সেখানে রেখেছে এবং এর পেছনে কোনো উগ্রপন্থী নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। কেরানীগঞ্জে উদ্ধার হওয়া বোমা, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ ও কুমিল্লার সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনাগুলোর সঙ্গে এ ঘটনার সম্ভাব্য যোগসূত্রও খুঁজছিল তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
সিটিটিসি'র ইউনিটের যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন ঢাকা পোস্টকে বলেন, রাজধানীর মতিঝিল আশুলিয়ায় বোমা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তের দুজনকে শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে একজন হচ্ছে আরিফ আর মূলহোতা বোমারু মামুন।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৮ টার দিকে সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকার আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন বাড়ি ঘিরে রেখে অভিযান শুরু করে পুলিশ। সেখানে বিপুর পরিমাণ কেমিক্যাল ও বিস্ফোরকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরিফকে। অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। বোমারু মামুনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার বা দণ্ডপ্রাপ্ত দেশের আলোচিত জঙ্গি সদস্যদের অনেকেই মুক্তি পায়। জেল থেকে পালিয়ে যায় কেউ কেউ। তাদেরই একটি অংশ আবারও সক্রিয় হয়ে ছোট ছোট সেল গঠন, নতুন সদস্য সংগ্রহ, অর্থায়নের উৎস তৈরি এবং বিস্ফোরক তৈরির সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্রে জানা যায়।
রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টো রথযাত্রার পথে শক্তিশালী ছাতাবোমাটির তদন্ত করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে আসে অন্যতম আলোচিত নাম নাজমুল হাসান ওরফে 'বোমারু মামুন'।
২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট রাজধানীর পান্থপথের 'হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনাল'-এ আস্তানা গড়েছিল নব্য জেএমবির সদস্যরা।
সিটিটিসি হোটেলটিতে 'অপারেশন আগস্ট বাইট' নামে একটি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সাইফুল ইসলাম নামের এক মূল হামলাকারী নিহত হয়। ২০১৯ সালে ১১ আগস্ট ওই সন্ত্রাসী হামলা মামলার অভিযোগপত্রে পুলিশের তদন্তে ও মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বোমারু মামুনের নাম আসে।
এর আগে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর উত্তরার সাত নম্বর সেক্টর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল সেই মামুনকে। সে সময় মামুন নব্য জেএমবি'র শীর্ষস্থানীয় নেতা ও শুরা সদস্য ছিলেন।
তিনি জঙ্গি সংগঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহ, বিস্ফোরক তৈরি, প্রশিক্ষণ দেয়া ও নাশকতামূলক হামলার পরিকল্পনা ইত্যাদি দায়িত্বেও নিয়োজিত ছিলেন বলে ডিএমপি তৎকালীন কর্তারা দাবি করেছিল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মামুন কারাগার থেকে বের হয়ে কেরানীগঞ্জ ও সাভারে বসবাস শুরু করেন। তার সঙ্গে যোগ দেন শেখ আল আমিন, মোহাম্মদ আরিফসহ অন্তত ১৫ জন। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, অর্থ ও জনবল সংগ্রহ করার কাজ পুরোদমে শুরু করেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়।
জেইউ/এনটি
