বুধবারের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা না হলে বৃহস্পতিবার থেকে কঠোর কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সংগঠনটির সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেছেন, শিক্ষক নিয়োগের পদ্ধতিকে দুর্নীতির আঁকড়ে পাঠিয়ে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নগর আমেলার নিয়মিত সভায় প্রতিবাদ ও কর্মসূচি ঘোষণাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশের জনগণ আশায় বুক বেঁধেছিল শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতিসহ সব ক্ষেত্রে নতুনত্ব আসবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে দেশকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নেবে নতুন নেতৃত্ব। শিক্ষাক্ষেত্রেও উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। কিন্তু যারা শিক্ষা দেবেন, সেই মহান শিক্ষক নিয়োগের পদ্ধতিকে দুর্নীতির আঁকড়ে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আগামীকালের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে পরিবর্তন না আনলে বৃহস্পতিবার থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কঠোর কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে।
শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের সমালোচনা করে শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, শিক্ষামন্ত্রী পরিবর্তিত বাস্তবতা বুঝতে পারছেন না। তার ক্ষেত্রে প্রজন্মগত ব্যবধান প্রবল হয়ে উঠছে। ২০২৫ সালে একটি নির্দেশনায় স্কুলের কর্মচারী নিয়োগ জেলা প্রশাসকের অধীনে একটি কমিটির কর্তৃত্বে দেওয়া হয়েছিল। জনাব মিলন সেটি বাতিল করে আবার স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির হাতে এনেছেন।
তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও তিনি একই নীতি নিয়েছেন। নতুন বাস্তবতা অনুধাবন করে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। স্থানীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিলে অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নগর সেক্রেটারি কে এম শরীয়াতুল্লাহর সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নগর সহ-সভাপতি জি এম রুহুল আমীন, আলহাজ আনোয়ার হোসেন, আলহাজ আবদুল আউয়াল মজুমদার, জয়েন্ট সেক্রেটারি ফজলুল হক মৃধা, সহকারী সেক্রেটারি মুফতি আবদুল আহাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নজরুল ইসলাম খোকন, হাফেজ সালাহউদ্দিন, তারিক মাসউদ, মাওলানা নজরুল ইসলাম, বেলাল হোসেন আরিফ, ওমর ফারুক, দপ্তর সম্পাদক গাজী নাজিমুদ্দিন, প্রশিক্ষণ সম্পাদক ইউসুফ আহমাদ মানসুর, আলহাজ আবদুর রহমান, এমদাদুল ফেরদাউস, মাহবুবুর রহমান নাহিয়ান, আবদুর রাজ্জাক আকন, মুফতি মাসউদুর রহমান।
জেইউ/এনটি
