বিজ্ঞাপন

লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু

ওমানে পালিয়ে যাওয়ার সময় বিমানবন্দর থেকে ছেলে গ্রেপ্তার

ওমানে পালিয়ে যাওয়ার সময় বিমানবন্দর থেকে ছেলে গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের লাঠির আঘাতে বাবা মোহাম্মদ শাহজাহান (৫০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে ওমানপ্রবাসী বোরহান উদ্দিন শওকতকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে ওমানে পালিয়ে যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে বাঁশখালী উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কোকদণ্ডী নিদা গাজী পাড়া এলাকায় এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। বোরহান উদ্দিন শওকত পরিবারের অমতে বিয়ে করা স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে আসেন। বিয়ে মেনে না নেওয়া এবং বাড়ি নির্মাণের ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিবারের অন্য নারী সদস্যদের মধ্যেও ঝগড়া বেধে যায়।

পরিস্থিতি শান্ত করতে মোহাম্মদ শাহজাহান তার মেয়েকে চড়-থাপ্পড় দিলে অসাবধানতাবশত তা গিয়ে পড়ে নতুন বিবাহিত পুত্রবধূর গায়ে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শওকত লাঠি দিয়ে বাবার মাথায় সজোরে আঘাত করেন। মারাত্মক আহত অবস্থায় শাহজাহানকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে তিনি মারা যান।

ঘটনার পর নিহত শাহজাহানের বোন লাকী আক্তার বাদী হয়ে বোরহান উদ্দিন শওকত ও তার বোন রুবি আক্তারকে আসামি করে বাঁশখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর শওকত আত্মগোপনে চলে যান এবং ওমানে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

বাঁশখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফ হোসেন বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে খবর পেয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় শওকতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘অভিযুক্ত শওকত ওমানপ্রবাসী। কিছুদিন আগে ছুটিতে দেশে এসে পারিবারিক কলহের জেরে সে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। আমাদের কাছে তথ্য ছিল সে আবারও ওমানে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ইমিগ্রেশন পুলিশকে জানানো হলে তাদের সহায়তায় বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইতোমধ্যে তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। সেখান থেকে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’

এদিকে, মঙ্গলবার বিকেলে জানাজা শেষে নিদা গাজী পাড়া এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে মোহাম্মদ শাহজাহানের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

এমআর/আরএফ