রাজধানী ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি ও ঐতিহাসিক ১ আগস্ট ‘ঢাকা দিবস’ উপলক্ষ্যে মাসব্যাপী বর্ণাঢ্য উৎসবের আয়োজন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ শীর্ষক এই উৎসব চলবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নগর ভবনের মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘ঢাকা শহরে আমরা অনেকেই বসবাস করি। কেউ জন্মসূত্রে, কেউ জীবিকার জন্য, আবার কেউ শিক্ষার জন্য। কেউ স্থায়ীভাবে, আবার কেউ অস্থায়ীভাবে। কিন্তু এই শহর আমাদের আশ্রয় দিয়েছে– এই সূত্রে আমরা সবাই এ শহরের নাগরিক। তবে শতবর্ষী এই রাজধানীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে দৃঢ় বন্ধন না থাকায় এ শহরকে আমরা অনেকেই আপন করে নিতে পারিনি।’
এর ফলে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশকনিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ রক্ষাসহ সার্বিক বিষয়ে নাগরিক সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে মনে করেন তিনি। প্রশাসক বলেন, নাগরিকদের কাছে রাজধানী ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরে তাদের হৃদয়ে ঢাকার প্রতি মমত্ববোধ ও দায়িত্ববোধ তৈরির জন্যই এ আয়োজন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে মাসব্যাপী আয়োজনের একটি তালিকা তুলে ধরা হয়– ১-৭ আগস্ট: বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা (ইতিমধ্যে সম্পন্ন); ২-৬ আগস্ট: চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনায় ঢাকার চলচ্চিত্রের ৭০ বছর পূর্তি উৎসব (ইতিমধ্যে সম্পন্ন); ১৪ আগস্ট: ভোরে ঢাকা গেট থেকে নগর ভবন পর্যন্ত ‘ঢাকা হেরিটেজ সাইকেল র্যালি’; ১৫ আগস্ট: মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে সোয়ারীঘাটের বুড়িগঙ্গা মঞ্চ পর্যন্ত ‘ঢাকা হেরিটেজ রান’; ১৬-২২ আগস্ট: সূত্রাপুরের জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে ঢাকার ওপর নির্মিত মঞ্চনাটক (নাট্যোৎসব)।
২১ আগস্ট খোলামোড়া ঘাট থেকে ওয়াইজ ঘাট পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। একই দিন সদরঘাটে শত বছরের পুরোনো বিশেষ ‘হেরিটেজ ক্রুজ’–যোগে পর্যটকদের ভ্রমণ; ২২ আগস্ট: মধুমিতা সিনেমা হলে ঢাকা নিয়ে নির্মিত পুরোনো চলচ্চিত্র প্রদর্শন; ২১-৩০ আগস্ট: ঢাকার বিপণিবিতানে ‘দি গ্রেট ঢাকা সেল’ এবং ‘লাভ লেটার টু ঢাকা’ (ঢাকা নিয়ে নাগরিকদের আবেগ ও ভালোবাসার চিঠি আহ্বান); ২১-২৮ আগস্ট: বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ঢাকার ওপর নির্মিত মঞ্চনাটক।
২৩-২৯ আগস্ট: বিটিভিতে ঢাকা নিয়ে নির্মিত পুরোনো নাটক ও অন্যান্য অনুষ্ঠান সম্প্রচার; ২৪ আগস্ট: উত্তর ধানমন্ডির জয়নুল হক শিকদার মহিলা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পাখির চোখে ‘হৃদয়ে ঢাকা’ উৎসব প্রদর্শন; ২৮ আগস্ট: লক্ষ্মীবাজার থেকে নগর ভবন পর্যন্ত ‘ঢাকা শোভাযাত্রা’ (ঘোড়ার গাড়ি, রিকশা, ভিনটেজ গাড়ি, পালকিসহ); ২৯ আগস্ট: বিকেল ৪টায় লালবাগ কেল্লায় উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে 'ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি' বাস্তবায়নে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা, মশকনিধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করা হবে এবং ৩০ আগস্ট: লালবাগ কেল্লায় ঘুড়ি উৎসব, বিশেষ ‘ঢাকা আড্ডা’ এবং সন্ধ্যায় ঐতিহ্যবাহী কাওয়ালিসহ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
১ সেপ্টেম্বর শিল্পকলা একাডেমিতে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও দেশের খ্যাতিমান চিত্রশিল্পীদের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত আর্ট ক্যাম্প এবং ৫ সেপ্টেম্বর আলমগঞ্জ জেটিতে পুরান ঢাকার পঞ্চায়েতি আড্ডা।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, ১৬১০ সালে সুবাহ বাংলার রাজধানী হিসেবে ঢাকার যাত্রা শুরু। আর ১৮৬৪ সালের ১ আগস্ট ঢাকা পৌরসভা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুরু হয় আধুনিক নগর প্রশাসনের পথচলা। কালের বিবর্তনে যা আজ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। তাই ১ আগস্টকে তারা ‘ঢাকা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রশাসক আরও বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান—বাংলাদেশের প্রতিটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সাক্ষী এই ঢাকা। সেই ঐতিহ্য ধারণ করেই একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও আধুনিক রাজধানী গড়ে তোলাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লক্ষ্য।’
একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্মার্ট ও নাগরিকবান্ধব ঢাকা গড়ে তুলতে সর্বস্তরের নাগরিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, গণমাধ্যম এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের এই আয়োজনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে ডিএসসিসি।
এসএএ/বিআরইউ
