বিজ্ঞাপন

কেরানীগঞ্জ, মতিঝিল ও আশুলিয়ায় বোমার সূত্র এক

আল আমিন-আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ‘নাটের গুরু’ বোমারু মামুনের

আল আমিন-আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ‘নাটের গুরু’ বোমারু মামুনের

রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে এবং সাভারের আশুলিয়ায় পরপর বোমা উদ্ধারের তদন্ত করতে গিয়ে ঢাকার সাভারে নব্য জেএমবির একটি সম্ভাব্য বোমা তৈরির আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। গত ১১ আগস্ট রাতে সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

সেই বাসায় অভিযানে বোমা, বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম, রাসায়নিক ও জঙ্গি সংগঠনের দাওয়াতি-সাংগঠনিক লিফলেট উদ্ধার করে সিটিটিসি।

আরিফকে গ্রেপ্তারের পর সিটিটিসি জানিয়েছে, ২০২৩ সালে নব্য জেএমবিতে যোগ দেয় আরিফ ওরফে ইমরান। যার গুরু নব্য জেএমবির বোমা বিশেষজ্ঞ নাজমুল হাসান মামুন ওরফে ‘বোমারু মামুন’। রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সম্প্রতি কয়েকটি বিস্ফোরণ ও বোমা উদ্ধারের ঘটনায় সেই বোমারু মামুনকেই নাটের গুরু হিসেবে হন্যে হয়ে খুঁজছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সিটিটিসি সূত্রে জানা গেছে, বোমারু মামুন ৯ বছর আগে জঙ্গিবাদের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামিনে বেরিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান। ‘তার বানানো’ বোমার আত্মঘাতী বিস্ফোরণেই রাজধানীর পান্থপথের হোটেল ওলিওতে সাইফুল ইসলাম নামে এক তরুণ নিহত হয়েছিল ২০১৭ সালে। ওইদিন বিস্ফোরণে হোটেলের দেয়াল ও রেলিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনায় করা মামলায় মামুনের নাম আসে। তবে মামুনের বিরুদ্ধে ওই মামলায় শেষ পর্যন্ত আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে হোটেল ওলিও মামলায় মামুনসহ ৯ আসামির খালাস দেওয়া হয়।

dhakapost

আদালতের রায়ের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সাক্ষ্য ও প্রমাণের ঘাটতির কারণে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে আইনগতভাবে ওই মামলায় মামুন খালাসপ্রাপ্ত।

পুরোনো সেই মামলায় খালাস পাওয়ার পরও নতুন করে মামুনের বিরুদ্ধে নব্য জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে বোমা তৈরির নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার নাটের গুরু বলছে পুলিশ। সাভারের বাসাটি আরিফ ভাড়া নিলেও সেখানে ধীরে ধীরে বোমা তৈরির সরঞ্জাম জড়ো করা হচ্ছিল। বড় হামলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই প্রেসার কুকার, পাইপসহ বিভিন্ন সামগ্রী সেখানে রাখা হয়। যার পরিকল্পনাকারী বোমারু মামুন বলে দাবি সিটিটিসি ও এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের (এটিইউ)।

এটিইউ সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর থেকে বোমারু মামুনের সঙ্গে নিয়মিত গোপন যোগাযোগ ছিল কেরানীগঞ্জে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জের উম্মুল কুরা নামের একটি মাদ্রাসায় বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণের পর স্ত্রী-সন্তান রেখে লাপাত্তা হওয়া মাদ্রাসাটির পরিচালক শেখ আল আমিন আর সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া আরিফের। আল আমিন গ্রেপ্তার হলে সতর্ক হয় বোমারু মামুন। গত সপ্তাহেও সাভারের ওই বাসায় সাক্ষাৎ হয়েছিল আরিফ ও বোমারু মামুনের। তাদের উপস্থিতিতে আরও কয়েকজন মিলে বৈঠকও হয় সেখানেই। মঙ্গলবার রাতের অভিযানে আরিফ গ্রেপ্তার হলেও হদিস পায়নি বোমারু মামুনের।

জানতে চাইলে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের এডিসি (ইনভেস্টিগেশন) মাঈন উদ্দীন চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, মঙ্গলবার রাতে সাভার থেকে মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান নামে যে যুবককে বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার গুরু হচ্ছে ‘বোমারু মামুন।

কেরানীগঞ্জে বোমা বিস্ফোরণ এবং মতিঝিল ও সাভারে বোমা উদ্ধারের ঘটনাগুলো একই সূত্রে গাঁধা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আরিফকে গ্রেপ্তারের পর তার সাভারের ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। তার গুরু নাজমুল হাসান মামুন লাপাত্তা। তাকে ধরতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।”

জানতে চাইলে সিটিটিসির যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘রাজধানীর মতিঝিল ও আশুলিয়ায় বোমা উদ্ধারের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছিল। তাদেরই একজন হচ্ছে আরিফ। আর গুরু হচ্ছে নাজমুল হাসান মামুন। যে উদ্ধার করা বোমার মূলহোতা। তাকে ধরতে পারলে অনেক কিছুই জানা সম্ভব।’

dhakapost

সাভারে ভাড়া বাসাকে বানানো হয়েছিল বোমার ল্যাব

তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের শ্যামপুরে আব্দুল জলিলের বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন আরিফ। স্থানীয়দের কাছে নিজের পরিচয় গোপন রাখতে তিনি ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন। গত ২ আগস্ট গাড়িচালক ও শিক্ষক হিসেবে ভুয়া পরিচয় দিয়ে পরিবার নিয়ে থাকার কথা বলে তিনি ওই বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নেন। পরে সিটিটিসি সেখানে অভিযান চালায়।

অভিযানের পর সাভার মডেল থানায় বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৬(২), ৮, ৯ ও ১০ ধারায় দায়ের করা মামলার (মামলা নম্বর-৫৫) আসামিরা হলেন, গ্রেপ্তার হওয়া মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান (২৬), মো. নাজমুল হাসান মামুন (৩২), মো. আব্বাস আলী (৩০), কামাল হোসেন ডাক্তার (৪৫), বাপ্পী (৩০) এবং রাকিব (৩০)। এর সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ৬/৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারের তথ্যমতে, ওই বাসা থেকে বিভিন্ন ধরনের তরল রাসায়নিক, রাসায়নিক পাউডার, বিস্ফোরকজাতীয় পাউডার, ডেটোনেটর, রিমোট ও কন্ট্রোলার, বৈদ্যুতিক তার, ভোল্টমিটার, স্প্রিং, জিআই তার, বিয়ারিং বল, গ্যাস ক্যান, গ্যাস টর্চ, বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং জিহাদসংক্রান্ত বই। এ ছাড়া পাঁচটি নিষ্ক্রিয়কৃত পাইপ বোমার ধ্বংসাবশেষ (আইইডি) উদ্ধারের কথাও নথিতে রয়েছে। এসব বোমার ধ্বংসাবশেষ জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ঘটনাস্থলেই নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে বলা হয়েছে, আসামিরা সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন নব্য জেএমবির সদস্যপদ গ্রহণ করেছে। তারা নিষিদ্ধ সংগঠনের আদর্শ ও সত্তাকে সমর্থন করেছে এবং বাংলাদেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে জনসাধারণের কোনো অংশের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য তৎপর ছিল বলে পুলিশ অভিযোগ করেছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, পুলিশ অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে হত্যা কিংবা গুরুতর আঘাত করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত থেকে সন্ত্রাসী কার্য করার উদ্দেশ্যে তারা সমবেত হয়েছিল।

মামলা তদন্তে এটিইউ, গ্রেপ্তার আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদ

সাভারের ঘটনায় দায়ের করা মামলার দায়িত্ব পেয়েছে পুলিশের এন্টি টেরোরিজম ইউনিট। গ্রেপ্তার আসামি আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদও শুরু করেছে ক্রাইম ও ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।

কেরানীগঞ্জে বিস্ফোরণ, মতিঝিল-আশুলিয়ায় বোমা উদ্ধার সূত্র একই

সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহে রাজধানী ও ঢাকার আশপাশে একাধিক বোমা উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। গত ২৪ জুলাই রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে একটি বোমা উদ্ধার করে সিটিটিসি। ওই ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়। তদন্তকারীরা তখন থেকেই বোমাটির উৎস, কে বা কারা এটি সেখানে রেখেছিল এবং এর সঙ্গে কোনো উগ্রপন্থি নেটওয়ার্ক জড়িত কি-না, তা খতিয়ে দেখছিলেন। এর কয়েক দিন পর, ৩১ জুলাই সাভারের আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকার একটি মুদি দোকানের সামনে ফেলে যাওয়া ভ্রমণব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি একটি বোমা উদ্ধার করা হয়। সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় সাভারের শ্যামপুরে বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিটিটিসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বোমা উদ্ধারের ঘটনাগুলোর পেছনে মামুনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তে সামনে এসেছে। আরিফের সঙ্গে মামুনের যোগাযোগ ছিল এবং সাভারের আস্তানায় মামুন নিয়মিত যাতায়াত করতেন। এরমধ্যেই বুধবার সকালে সাভারের গোপেরবাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের সামনের মাঠে পড়ে থাকা একটি ড্রামের ভেতর থেকে আরও একটি প্রেসার কুকার বোমার সন্ধান মেলে। পরে সেটি নিরাপদ দূরত্বে বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট।

dhakapost

ঘটনাগুলোর সময় ও স্থান বিবেচনায় নিয়ে এগুলোর সাংগঠনিক যোগসূত্র আছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. রেজাউল করিম। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, “বোমার প্যাটার্ন দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে একই গ্রুপের কাজ। এখন এই গ্রুপটার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত আছে কি-না সেটা খতিয়ে দেখতে হবে। সাভারের নতুন এই ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত দায়িত্ব পেয়েছে এটিইউ। আসামি আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”

উগ্রবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার জঙ্গিদের একটি বড় অংশ ৫ আগস্টের পর কারাগার থেকে পালিয়ে যায়। তাদের সঙ্গে এই আরিফ, শেখ আল আমিন ও বোমারু মামুনের যোগাযোগ রয়েছে কিনা? জানতে চাইলে তিনি বলেন, “উগ্রবাদি গ্রুপগুলোর মধ্যে মতাদর্শিক দ্বৈরথ বা মতবিরোধ আছে। তাই সবার সঙ্গেই যোগাযোগ ছিল এটা বলা ঠিক হবে না। তবে কারো না কারো সাথে যোগাযোগ ছিল। সেটা কতোটা ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে সেটা তদন্তসাপেক্ষ। বোমারু মামুনকে পাওয়া গেলে অনেক কিছু জানা সম্ভব হবে। তবে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বিস্ফোরণ, মতিঝিল ও সাভার-আশুলিয়ায় বোমা উদ্ধারের ঘটনায় একটি গ্রুপকেই সক্রিয় দেখছি।”

কে এই বোমারু মামুন

নাজমুল হাসান মামুনকে ঘিরে পুলিশের উদ্বেগের কারণ পুরোনো। যেটি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানতে পারে গতবছর। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে মাদ্রাসায় বিস্ফোরিত বোমার হোতা ছিলেন মামুন। মাত্র ২১ বছর বয়সে বোমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিল মামুন। সে সময় পুলিশ নব্য জেএমবির শীর্ষস্থানীয় নেতা ও শুরা সদস্য হিসেবে বর্ণনা করেছিল। সংগঠনের অর্থ সংগ্রহ, বিস্ফোরক তৈরি, প্রশিক্ষণ এবং নাশকতার পরিকল্পনায় তার ভূমিকা ছিল বলে সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল।

মামুনের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ২০১৭ সালের পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালকে ঘিরে জঙ্গি অভিযানের ঘটনায়। ওই বছরের ১৫ আগস্ট রাতে পুলিশ ও সিটিটিসি হোটেলটি ঘিরে ফেলে। পরদিন সোয়াট অভিযান শুরু করলে হোটেলের একটি কক্ষে থাকা সাইফুল ইসলাম নিজের কাছে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হন। বিস্ফোরণে হোটেলের দেয়াল ও রেলিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনায় করা মামলায় মামুনের নাম আসে।

তবে মামুনের বিরুদ্ধে ওই মামলায় শেষ পর্যন্ত আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে হোটেল ওলিও মামলায় মামুনসহ আসামিদের খালাস দেওয়া হয়।

আদালতের রায়ের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সাক্ষ্য ও প্রমাণের ঘাটতির কারণে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে আইনগতভাবে ওই মামলায় মামুন খালাসপ্রাপ্ত।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ যে তথ্য দিয়েছে- তা যাচাই করে সিটিটিসির ধারণা, কেরানীগঞ্জে বোমা তৈরির একটি আস্তানা ব্যর্থ হওয়ার পর সাভারে তুলনামূলক নিরাপদ জায়গায় বড় পরিসরে বোমা তৈরির সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল।

সিটিটিসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, বোমারু মামুন বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছিল। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কেরানীগঞ্জে একটি আস্তানা গড়ে তোলার পর সাভারে বোমা তৈরির শক্তিশালী ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে প্রস্তুত করা বোমা অন্যত্র নিয়ে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। গ্রেপ্তার সহযোগী আরিফও বোমা বানাতে পারদর্শী। সে গ্রেপ্তার হলেও তদন্তের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখনো বোমারু মামুনকে ঘিরে। সে কোথায় আছে, সঙ্গে আর কারা যুক্ত, সাভারের বাসাটি কত দিন ধরে ব্যবহার করা হচ্ছিল, সেখানে কতগুলো বোমা তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল এবং ইতোমধ্যে তৈরি কোনো বিস্ফোরক বাইরে পাঠানো হয়েছে কি-না, এসব প্রশ্নের উত্তর মিললেই নেটওয়ার্কটির ব্যাপ্তি স্পষ্ট হবে।

জেইউ/এসএম