বিজ্ঞাপন

সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত গ্যাসে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় বেলার শোক ও নিন্দা

সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত গ্যাসে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় বেলার শোক ও নিন্দা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে শ্রমিক নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল ল’ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলা)।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি পুরোনো এলএনজি ক্যারিয়ার কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত নয়জন শ্রমিক নিহত এবং আরও ১০ থেকে ১২ জন আহত হন। পরে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী সদস্যরা বিকেল ৫টার দিকে জাহাজের ভেতরে অনুসন্ধান অভিযান বন্ধ করে দেন।

এক বিবৃতিতে বেলা জানিয়েছে, শিপব্রেকিং শিল্পে এ ধরনের প্রাণহানি নতুন বা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ কর্মক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত এ শিল্পে চলতি বছরও একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত ২৫ জানুয়ারি গ্রিন শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড জনতা স্টিলে জাহাজের ট্যাংকের ঢাকনা খোলার সময় বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে এসে এক ফিটার আক্রান্ত হন। ১০ ফেব্রুয়ারি ফেরদৌস স্টিলে জাহাজ কাটার সময় কাটিং টর্চের সঙ্গে সংযুক্ত গ্যাসের নল ফেটে আগুন ধরে গেলে এক কাটারম্যান গুরুতর আহত হন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সীতাকুণ্ডে এসএন করপোরেশনের ইউনিট-২ ইয়ার্ডে তেলবাহী ট্যাংকার ভাঙার সময় বিস্ফোরণে সাতজনের বেশি শ্রমিক নিহত হন।

বেলা বলছে, এসব কোনো অজ্ঞাত, ছোট বা নিয়মবহির্ভূত শিপব্রেকিং ইয়ার্ড নয়। এগুলো হংকং কনভেনশনের স্বীকৃত ও শর্ত পূরণকারী গ্রিন শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড হিসেবে পরিচিত। তাহলে হংকং কনভেনশন-স্বীকৃত গ্রিন শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডেও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না কেন? এ প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, শিপব্রেকিং শিল্প সংশ্লিষ্টরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করে আসছেন। তারা এ শিল্পকে ‘রেড’ ক্যাটাগরির পরিবর্তে ‘অরেঞ্জ’ ক্যাটাগরিতে পুনর্বিন্যাসের দাবি জানিয়েছেন। হংকং কনভেনশন কার্যকর হওয়ার পর বেসেল কনভেনশনের আওতায় বর্জ্যের আন্তঃসীমান্ত পরিবহন ও নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত বিধিনিষেধের প্রয়োজন নেই বলেও তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু তুলনামূলকভাবে দুর্বল হংকং কনভেনশনের আওতায় কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার পরও শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।

বেলা আরও বলেছে, পরিবেশ সুরক্ষা ও শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক আদালতের আদেশ ও রায় এবং বিভিন্ন আইন ও বিধিমালা থাকা সত্ত্বেও শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলো এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে পরিচালিত হচ্ছে। এ জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

এদিকে সীতাকুণ্ডের বিষাক্ত গ্যাস দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বেলা। তবে তদন্ত কমিটিকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। হাইকোর্টের একাধিক আদেশ ও রায়েও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক মনিরা পারভীন বলেন, এসব দুর্ঘটনার শুধু তদন্ত করলেই হবে না। যাদের দায়ে শ্রমিকদের প্রাণহানি ঘটেছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। আদালতের আদেশ ও রায় কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শক্তিশালী ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। নিহত শ্রমিকদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং আহত শ্রমিক ও তাদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা জানিয়েছে বেলা। শিপ রিসাইক্লিং শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের জীবনকে সস্তা বা তুচ্ছ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। শ্রমিকদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

এনামুল হক নাবিদ/এনটি

বিজ্ঞাপন