ভরা মৌসুমেও ইলিশের বাজারে স্বস্তি নেই। রাজধানীর বাজারগুলোতে সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে জাতীয় এই মাছ। আকারভেদে এক কেজি ইলিশের দাম উঠেছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত। ছোট আকারের ইলিশের দামও কম নয়। ফলে ইলিশের মৌসুম চললেও সাধ ও সাধ্যের হিসাব মেলাতে পারছেন না সাধারণ ক্রেতারা।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর গুলশান ও রামপুরা এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে ইলিশের দামের এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে আকারভেদে ইলিশের দামে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। প্রায় ২৫০ গ্রাম ওজনের চারটি ইলিশে কেজিপ্রতি দাম ধরা হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা। ৫০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকায়। আর এক কেজি ওজনের ইলিশের ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
বারিধারার জোয়ার সাহারা বাজারের ইলিশ বিক্রেতা শিপন বর্মণ বলেন, তার দোকানে ৩৫০ গ্রাম থেকে শুরু করে ১ হাজার ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ রয়েছে। এর মধ্যে ছোট আকারের ইলিশের কেজি ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। বড় আকারের ইলিশের কেজি ২ হাজার ৫৫০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত।
এছাড়া বাজারে প্রায় ১৪৫ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকায়। অর্থাৎ আকারে খুব ছোট ইলিশ কিনতেও ক্রেতাকে তুলনামূলক বেশি দাম দিতে হচ্ছে।
শিপন বর্মণ বলেন, আড়তে ইলিশের সরবরাহ কম। পরিবহনসহ অন্যান্য খরচও বেড়েছে। এর মধ্যে সাগরে দুদিন পরপর নিম্নচাপ হচ্ছে। এতে মাছ ধরতে সমস্যায় পড়েন জেলেরা। ফলে বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দামও কমছে না।
গুলশান কাঁচাবাজারের ইলিশ বিক্রেতা জামাল হোসেন বলেন, ইলিশের প্রতি ক্রেতাদের বরাবরই আলাদা চাহিদা রয়েছে। তবে বর্তমানে প্রায় সব ধরনের মাছের দামই বেশি। এর প্রভাব ইলিশের বাজারেও পড়েছে।
বিক্রেতারা বলছেন, ইলিশের মৌসুম চললেও নদী ও সাগর থেকে পর্যাপ্ত মাছ আসছে না। এর সঙ্গে মাছ আহরণ ও বাজারজাতকরণের বিভিন্ন খরচও বেড়েছে। জ্বালানি, জাল, বরফ, পরিবহনসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই ব্যয় বেড়েছে। ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ইলিশ কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আড়তেও বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে বলে জানান তারা।
এদিকে, ভরা মৌসুমেও ইলিশের সরবরাহ না বাড়লে জাতীয় এই মাছ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ক্রেতারা।
জোয়ার সাহারা বাজারে মাছ কিনতে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী জাহিদ হাসান বলেন, ইলিশ কেনার ইচ্ছা থাকলেও দাম বেশি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত অন্য মাছ কিনেছেন তিনি।
তিনি বলেন, সাধারণত ভরা মৌসুমে ইলিশের দাম কিছুটা কম থাকে। কিন্তু এবার দাম অনেক বেশি। হাজার টাকার নিচে তেমন কোনো ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। চাহিদা থাকলেও বেশি দামের কারণে আগের মতো ইলিশ কেনা যাচ্ছে না। তাই ইলিশের বদলে রুই মাছ কিনতে হয়েছে।
ফারুক হোসেন, মেজবাহ উদ্দিনসহ কয়েকজন ক্রেতা বলেন, ইলিশ উৎপাদনে জেলেদের খরচ তুলনামূলক কম হলেও বাজারে এ মাছ সবসময়ই চড়া দামে বিক্রি হয়। এবারও সরবরাহ কম থাকার কথা বলে বেশি মূল্যে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। তাদের দাবি, বাজারে পর্যাপ্ত ইলিশ রয়েছে। মূলত সরবরাহের ঘাটতি নয়। অন্য কোনো কারণে ইলিশের দাম কমছে না বলে মনে করেন তারা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইলিশের দাম কমাতে হলে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর বিকল্প নেই। নদী ও সাগরে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়লে আড়তে মাছের সরবরাহ বাড়বে। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি ইলিশের দামও কিছুটা কমে আসতে পারে।
এমআরআর/আরএফ
