চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে নগরীর বিভিন্ন পুকুর পর্যায়ক্রমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হবে। পরিষ্কার করা পুকুরগুলোতে পরবর্তী সময়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) চট্টগ্রাম নগরীর কাজির দেউরিতে কাজী বাড়ি পুকুর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি উদ্বোধন করার সময় এসব কথা বলেন তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন, পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম এই স্লোগানকে সামনে রেখে গত ২৫ জুলাই থেকে সারা জেলায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতি সপ্তাহে জেলার বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, পুকুরে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকলে পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন রোগ-জীবাণু, ডেঙ্গু মশাসহ নানা ধরনের ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের বিস্তার ঘটে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই পুকুরগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি এগুলোর পরিবেশগত সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, নগরীর বিভিন্ন পুকুর চিহ্নিত করে তা পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নেওয়ার সময় হয়ে গেছে, অনেক পুকুর ইতোমধ্যে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উদ্যোগে পরিষ্কার করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শুধু একটি পুকুর পরিষ্কার করলেই পুরো জেলার পুকুর পরিষ্কার হবে না।
আমরা জেলার সব মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাই আসুন, আমরা যার যার অবস্থান থেকে সমাজকে পরিচ্ছন্ন করি এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলি।
তিনি আরো উল্লেখ করে বলেন, মানুষের জীবনের সার্থকতা শুধু নিজের ভালো থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং অন্যের জন্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কিছু করতে পারার মধ্যেই প্রকৃত সার্থকতা নিহিত। পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণকে সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এমন একটি নতুন সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে এবং পরিবেশের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে।
আয়োজিত কর্মসূচির নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই মিলে এবং সকলের সমন্বিত ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই পরিচ্ছন্নতার কাজ এগিয়ে নিতে চাই। শুধু সরকারি উদ্যোগে একটি পরিচ্ছন্ন শহর বা সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, পুকুরগুলো নগরীর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘদিন অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে থাকা পুকুর পরিষ্কার করার মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তাই পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পুকুর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কাজী বাড়ি পুকুর পরিষ্কার কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী , সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমআর/বিআরইউ
