বিজ্ঞাপন

সীতাকুণ্ডে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু : ফেরদৌস শিপইয়ার্ড বন্ধ ঘোষণা

সীতাকুণ্ডে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু : ফেরদৌস শিপইয়ার্ড বন্ধ ঘোষণা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকায় বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের সব ধরনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড (বিএসআরবি) ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত জানায়। 

সংস্থাটির মহাপরিচালক এএসএম শফিউল আলম তালুকদার জানান, স্থগিতাদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত শিপইয়ার্ডটির সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর ওই শিপইয়ার্ডে একটি পুরোনো এলএনজি জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে দমবন্ধ হয়ে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার সময় শ্রমিকদের পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) ছিল কি না, গ্যাস সিলিন্ডার কাটার সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না এবং ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত ইয়ার্ডটির কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

তদন্তে নিরাপত্তা বা কমপ্লায়েন্সে গুরুতর ঘাটতি কিংবা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি প্রমাণিত হলে ইয়ার্ডটির অনুমোদন বা লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিলের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে দুর্ঘটনার পর ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দুর্ঘটনার পর ইয়ার্ডের মূল ফটক বন্ধ করে দিয়ে বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পাশাপাশি ইয়ার্ডে নিজস্ব কোনো অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় আহত শ্রমিকদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, আহতদের হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা ও শ্রমিকেরা ইয়ার্ডের ভেতরে ভাঙচুরও চালান।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। নিহত শ্রমিকদের মরদেহের ময়নাতদন্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ৯ জনের মধ্যে একজনের মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হলেও বাকি আটজনের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) জানিয়েছে, নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে সংগঠনের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। তবে তদন্তে ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ দোষী প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। দুর্ঘটনার পর ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে থাকা এলএনজি জাহাজটি সিলগালা করে রাখা হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এমআর/বিআরইউ