এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২১২টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। নির্বাচনের ঠিক পাঁচ দিন পর, ১৭ ফেব্রুয়ারি দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। আগামীকাল ১৬ আগস্ট পূর্ণ হতে যাচ্ছে এই সরকারের দায়িত্ব পালনের ছয় মাস।
দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিনে রাষ্ট্র পরিচালনায় কী কী উদ্যোগ নিতে পেরেছে সরকার, এর মধ্যে তাদের অর্জনই বা কী, আর গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আগামীর চ্যালেঞ্জ কী— এসব তুলে ধরে একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করতে যাচ্ছে সরকার। সেখানে নানা বিষয়ে অবতারণার পাশাপাশি বলা হয়েছে, এই ৬ মাসে জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একটি রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে সরকার।
প্রথম ছয় মাসের নিজস্ব মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি খুব শিগগিরই একটি বুকলেট আকারে প্রকাশ করবে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এটি প্রকাশ করতে পারেন।
সূত্র আরও জানায়, আগামী ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হবে।
সরকারের নিজস্ব মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, জনকল্যাণ, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, প্রশাসনিক সংস্কার ও পররাষ্ট্রনীতিতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া এবং অর্জনের কথা আছে। এ ছাড়া, নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষকদের কৃষি ঋণ মওকুফসহ আরও বেশ কয়েকটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করার সাফল্যের কথা থাকছে মূল্যায়ন প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, সরকার এই সময়ের মধ্যে কেবল নতুন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি নতুন ধারা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছে। ব্যক্তিনির্ভরতা পরিহার করে প্রাতিষ্ঠানিকতা প্রতিষ্ঠা করা, সরকারি খরচে মিতব্যয়িতা বজায় রাখা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে সরকার।

ব্যক্তি-কেন্দ্রিক রাজনীতি থেকে রাষ্ট্রকেন্দ্রিকতার বার্তা
সরকারের ছয় মাসের রিপোর্টে সবচেয়ে দৃশ্যমান রাজনৈতিক বার্তাগুলোর একটি হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিকতার ওপর জোর দেওয়া। সরকারি অফিস, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে নেতাদের ছবি টানানোর প্রচলন বন্ধ করা, সরকারি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার না করা এবং ভিআইপি সংস্কৃতি কমানো। একইসঙ্গে সরকারি ব্যয়ে সংযমের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সরকারি গাড়ির পরিবর্তে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছেন, কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমানো হয়েছে এবং বিদেশ সফর ও সরকারি আপ্যায়ন ব্যয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাটছাঁটের কথা মূল্যায়ন রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তার মাসিক মূল বেতনের ১০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিচ্ছেন।
বর্তমান জাতীয় সংসদের ৫২টি কার্যদিবসে ১০৫টি বিল পাস করার বিষয়টিও মূল্যায়ন রিপোর্টে উঠে এসেছে।
নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নিট প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) ৪৪ শতাংশ বেড়ে ১৭৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এক কোটি কর্মসংস্থানের রোডম্যাপ
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০২৬-৩১ মেয়াদে প্রায় এক কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের জিইডির প্রস্তাব অনুযায়ী দেশে ও বিদেশে মিলিয়ে ৯৩ লাখ ২৭ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকার কর্মসংস্থানকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রীয় এজেন্ডা হিসেবে দেখছে। শিল্পায়ন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, অনানুষ্ঠানিক খাত, স্টার্টআপ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে কর্মসংস্থানের চালিকাশক্তি করার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তা ও মজুত
খাদ্য মজুতের ক্ষেত্রে সরকার তুলনামূলকভাবে পরিমাপযোগ্য অগ্রগতির কথা জানিয়েছে। ২৮ জুন পর্যন্ত সরকারি গুদামে ২২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত ছিল, যা নির্ধারিত নিরাপদ মজুতের চেয়ে প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার ৯৪৫ টন বেশি। একই সময়ে বোরো সংগ্রহ অভিযানে ২ লাখ ৭১ হাজার ৩১২ টন ধান এবং ৭ লাখ ৯৮ হাজার ৯১২ টন চাল সংগ্রহের তথ্য দেওয়া হয়েছে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই মজুত, বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার সক্ষমতা বাড়িয়েছে।
অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতার চেষ্টা, বড় লক্ষ্য সামনে
অর্থনীতিকে সরকারের ছয় মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডাগুলোর একটি হিসেবে দেখানো হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেওয়া হয়েছে। এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ‘রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন’, ‘রেস্টোরেশন’ এবং ‘রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসেলারেশন’, এই তিন ধাপের থ্রি-আর কৌশল ঘোষণা করা হয়েছে।
ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে ব্যবসা শুরুর সময় প্রায় এক বছর থেকে কমিয়ে ১৪ দিনে নামানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক অনুমোদনগুলো একীভূত করে ১২ মাসের প্রভিশনাল লাইসেন্স এবং ১৫তম দিনে যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি খোলার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কৃষকদের অর্থায়ন সহজ করা এবং সবুজ বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ১৯ হাজার কোটি টাকার চারটি পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি চালু করেছে।
অর্থাৎ প্রথম ছয় মাসে সরকারের অর্থনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু ছিল স্থিতিশীলতা ফেরানো, বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর ভিত্তি তৈরি করা। তবে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামানো বা এক কোটি কর্মসংস্থানের মতো বড় লক্ষ্যগুলোর প্রকৃত সাফল্য বিচার করতে আরও সময় প্রয়োজন বলে দাবি করা হয়েছে।
খাল খনন ও চারা রোপণ
২০২৬ সালে সরকার প্রায় ৫ কোটি ১৫ লাখ চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে সরকারের প্রথম ৬ মাসে অর্থাৎ ১৮০ দিনে ২ কোটি ২২ লাখ ৬৮ হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনরায় খননের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ২ হাজার ১৬৫ কিলোমিটার খাল পুনরায় খনন করা হয়েছে।
কৃষক ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরাসরি সহায়তা
জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সামনে আনা হয়েছে। ক্ষুদ্র কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষক উপকৃত হয়েছেন বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
বিএনপির অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল ফ্যামিলি কার্ড চালু করা। বিগত ৬ মাসে সরকার ৬৭ হাজার ২৭৮টি কার্ড বিতরণ করেছে। ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে অন্তত ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
এ ছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষকের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
এখানে সরকারের কৌশলটি হচ্ছে, প্রচলিত ভর্তুকি বা প্রশাসনিক সহায়তার পাশাপাশি সরাসরি সুবিধাভোগীর কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ড এই কাঠামোরই অংশ।
আইনশৃঙ্খলায় কঠোরতা, ‘দ্রুত বিচার’কে সাফল্য হিসেবে দেখছে সরকার
আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা সরকারের প্রথম ছয় মাসের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখানো হয়েছে। রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ১৯ দিনে এবং মেহেরপুরের শিশু ধর্ষণ মামলার রায় ২৯ কার্যদিবসে সম্পন্ন হওয়ার কথা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর বড় অভিযানকে ‘রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা’র উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে সরকার। প্রায় ৩ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার সদস্যের এই অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও এপিবিএন অংশ নেয়।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ বড় কয়েকটি হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার ও দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের কথাও সরকার উল্লেখ করেছে খতিয়ানে। জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার একজন আসামিকে ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটিকে একটি সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছ।

পুশ-ইন ঠেকানো, সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ে কঠোর অবস্থানকে সরকারের নিরাপত্তা নীতির অন্যতম দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন সীমান্তে পুশ-ইন প্রচেষ্টা প্রতিহত করার দাবি করেছে সরকার।
কারাগার ও আটককেন্দ্রে মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ‘ন্যাশনাল প্রিভেন্টিভ মেকানিজম’ বিভাগ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী এই বিভাগ পূর্বঘোষণা ছাড়াই কারাগার, পুলিশ হেফাজত ও অন্যান্য আটককেন্দ্র পরিদর্শন করতে পারবে।
পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য, চীন-মালয়েশিয়া সফর
‘কৌশলগত ভারসাম্য’ এবং ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’, এই নীতিকে সরকারের পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াসহ বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখার কথা বলেছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জুনের চীন সফরকে ছয় মাসের অন্যতম বড় কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই সফরে ২০টির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় এবং অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।

মালয়েশিয়া সফরে শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা, কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা আনা এবং বাংলাদেশি শ্রমিকদের সুরক্ষার বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত এবং সিন্ডিকেট ব্যবস্থা বাতিলের কথাও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সভাপতি নির্বাচিত হওয়াকেও সরকারের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
শিক্ষা খাতে বড় বরাদ্দ ও ডিজিটাল রূপান্তর
শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা করা হয়েছে। বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪৩ দফা অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’, ফ্রি ওয়াই-ফাই, ডিজিটাল ক্লাসরুম, বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ এবং শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি বাড়ানোর মতো নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির ২০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার ডিজিটাল ক্লাসরুম চালু হয়েছে এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো ৬৫ হাজার ল্যাপটপ ও ৬২ হাজার মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর সংস্কার করে ৮২ শতাংশ ক্লাসরুম সচল করার দাবি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য : মানবিক সেবা থেকে ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড
স্বাস্থ্য খাতে সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য হচ্ছে চিকিৎসাসেবায় মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা। এ জন্য এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার ৮০ শতাংশই হবেন নারী। পাশাপাশি আরও ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
হৃদরোগের স্টেন্ট, ভাল্ব, পেসমেকার, অক্সিজেনেটর ও ক্যানসার চিকিৎসার কিছু কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও কর কমানো বা প্রত্যাহারের কথাও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি নাগরিকের জন্য ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ড চালুর লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ডেটা আর্কিটেকচার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই যোদ্ধা ও ধর্মীয় নেতাদের ভাতা
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবারের ভাতা বাড়ানো হয়েছে। ১৪ হাজার ৩৬৮ জন গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধার মধ্যে ১৩ হাজার ৪৭৯ জন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মাসিক ভাতা পাচ্ছেন। ধর্মীয় নেতাদের জন্য পরীক্ষামূলক সম্মানী কর্মসূচির আওতায় ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে ভাতা দেওয়া হয়েছে।
তবে, এই ছয় মাসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। মার্চ ও এপ্রিলে জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির পর জুলাইয়ে গ্যাস সরবরাহে তীব্র ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায়। পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় শিল্পকারখানা, সার কারখানা ও সিএনজি স্টেশনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়; এমনকি কিছু শিল্প কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়।
এ সময়ে বিএনপির নেতাদের এক বছরের চুক্তিতে ১১টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া এবং দলীয় ব্যক্তিদের ১১টি সিটি করপোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা দেখা দেয়।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ১৮০ দিনের টার্গেট কতটুকু বাস্তবায়ন করেছে জানতে চাইলে এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা আমরা পরিপূর্ণভাবে সফলতার সঙ্গে এবং মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করেছি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের যে টার্গেট ছিল, অর্থাৎ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে খাল খননের যে লক্ষ্য ছিল, তা ১০২ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। আর বৃক্ষরোপণের যে লক্ষ্য ছিল, সেখানেও আমরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চারা লাগিয়েছি।
এদিকে, গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার গঠনের পর প্রথম ৬ মাসে বিএনপি সরকারের অধিকাংশ নির্বাচনি অঙ্গীকার ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে। কোথাও ১০০ শতাংশ, আবার কোথাও ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত লক্ষ্য পূরণ হয়েছে।
তিনি বলেন, এই সময়ে কর্মসূচিগুলো চালু করার জন্য সরকারকে অনেক প্রস্তুতিমূলক কাজ করতে হয়েছে। আগামী ছয় মাস আরও বেশি ফলপ্রসূ হবে।
এএইচআর/এমএসএ
