বিজ্ঞাপন

জ্বালানি সহযো‌গিতা নি‌য়ে তুর্কমেনিস্তানের সঙ্গে আলোচনা

জ্বালানি সহযো‌গিতা নি‌য়ে তুর্কমেনিস্তানের সঙ্গে আলোচনা

বাংলাদেশ ও তুর্কমেনিস্তান জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশগাবাতে অনুষ্ঠিত দুই দেশের রাজনৈতিক পরামর্শ বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

রোববার (১৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে এই তথ্য জানায়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম এবং তুর্কমেনিস্তানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেত গুরবানভ নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

বৈঠকে দুই পক্ষই বাংলাদেশ ও তুর্কমেনিস্তানের মধ্যে সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ ও গভীর করার ওপর গুরুত্বারোপ করে।

বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে বৈশ্বিক নেতৃত্ব এবং তুর্কমেনিস্তানের তুলা উৎপাদনের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এ খাতে যৌথ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে দুই দেশ।

একইসঙ্গে বাংলাদেশের উন্নত ওষুধ উৎপাদন সক্ষমতার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে তুর্কমেনিস্তান ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে অংশীদারত্বের আগ্রহ জানায়।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে তুর্কমেনিস্তান।

প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুতধারী দেশ হিসেবে তুর্কমেনিস্তান বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। পাশাপাশি কৃষি খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে সার রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি।

বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত পণ্য, সিরামিক, হালকা প্রকৌশল পণ্য এবং সেমিকন্ডাক্টর আমদানির জন্য তুর্কমেনিস্তানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এ ছাড়া, পেট্রোকেমিক্যাল ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে যৌথ সহযোগিতার সম্ভাবনাও নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

দুই দেশের প্রতিনিধিদল ২০২৭-২৯ সালের জন্য একটি সম্ভাব্য ‘প্রোগ্রাম অব অ্যাকশন’ প্রণয়নে সম্মত হয়েছে। এর আওতায় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা সহজীকরণ, পর্যটন উন্নয়ন, দ্বৈত কর পরিহার, বিনিয়োগ সুরক্ষা ও শিল্প খাতে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ ছাড়া, দুই দেশের বেসরকারি খাত ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে তুর্কমেন বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য একটি যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি (জেডব্লিউসি) গঠনের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে।

রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে উচ্চপর্যায়ের পারস্পরিক সফর আয়োজন এবং সংসদ সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ-তুর্কমেনিস্তান পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়।

দুই দেশ জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, শিক্ষার্থী ও যুব বিনিময়, পর্যটন এবং বাংলাদেশি দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়ে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করে।

আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও তুর্কমেনিস্তান। জাতিসংঘ, ওআইসি ও ন্যামসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। 

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে তুর্কমেনিস্তান।

বৈঠকে তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হক উপস্থিত ছিলেন।

এনআই/জেডএস

বিজ্ঞাপন