চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল করার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ জন, সব মিলিয়ে ৪৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে আনোয়ারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমাম হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
এ ঘটনায় মিছিলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আতাউল আমিন (১৬) নামে একাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে আনোয়ারা থানা পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গত শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে আনোয়ারা সদর ইউনিয়নের কলেজ রোড এলাকায় ১০ থেকে ১৫ জনের একদল তরুণ ও কিশোর ঝটিকা মিছিল বের করে। মিছিলকারীদের হাতে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ছবিসংবলিত একটি ব্যানার ছিল। মিছিলে নেতৃত্বে ছিলেন শেখ রবিউল নামের এক যুবক। মিছিল থেকে নানা স্লোগান দেওয়া হয়। মিছিলটি কলেজ রোড প্রদক্ষিণ করে দ্রুত সরে যায়। ফলে তারা কোনদিকে গিয়েছে তা জানা যায়নি।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১ মিনিট ৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও চিত্র বিশ্লেষণ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে জয়কালী বাজার এলাকার ‘আনোয়ারা সিটি সেন্টার’-এর সামনে থেকে আতাউল আমিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার আতাউল আমিন আনোয়ারা সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জয়কালী বাজার এলাকার নুরুল আলমের ছেলে। সে আনোয়ারা সরকারি কলেজের মানবিক বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। পরিবার ও জন্মনিবন্ধন সনদের তথ্য অনুযায়ী, তার বর্তমান বয়স ১৬ বছর ৯ মাস ৫ দিন।
মামলার এজাহারের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলে মামলার বাদী এসআই ইমাম হোসেন, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
আনোয়ারা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মজনু মিয়া জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের বের করার চেষ্টা চলছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল করার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। এঘটনায় জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
জেআই
