চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার এলাকর একটি বাসায় প্রধান দরজার তালা ভেঙে প্রায় ১২ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় দুই পেশাদার চোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে চোরাই স্বর্ণ গলিয়ে তৈরি করা বেশ কিছু অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং এলাকার মৃত আমির হামজার ছেলে মো. রহমত ওরফে হাসান (২৯) এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পশ্চিম চাম্বল এলাকার মৃত মিজানের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন ওরফে অপূর্ব (২৭)। তারা দুজনই নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার ড্রীমল্যান্ড আবাসিক এলাকায় বসবাস করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই সকাল ৮টা থেকে ২৭ জুলাই বিকেল ৫টার মধ্যে যেকোনো সময়ে চকবাজার থানা এলাকার ডিসি রোডের কালাম কলোনীর হক ম্যানশনের নিচতলায় এরফানুল হক নামের এক বাসিন্দার বাসা খালি থাকার সুযোগে চোরচক্রের সদস্যরা প্রবেশ করে। তারা বাসার প্রধান দরজার তালার হুক ভেঙে ভেতরে ঢুকে প্রায় ৬ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ লাখ টাকা। এ ঘটনায় গত ২৯ জুলাই চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চকবাজার পুলিশ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. গিয়াস উদ্দিন ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামিদের শনাক্ত করেন।
ফুটেজে দেখা যায়, চক্রের সদস্যরা মোটরসাইকেলে এসে দরজার তালার হুক ভেঙে চুরি সংঘটিত করে।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলা পৌনে ১২টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ড্রীমল্যান্ড আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাটহাজারী থানার আমান বাজার এলাকার ‘বিএন জুয়েলার্স’-এ অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে চোরদের বিক্রি করা স্বর্ণ গলিয়ে তৈরি ১২টি আংটি, ৬ জোড়া কানের দুল ও ২টি চেইন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া দোকান থেকে আসামি রহমতের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও স্বর্ণ ক্রয়ের রেজিস্টার জব্দ করা হয়েছে।
সিএমপির সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ জানান, গ্রেপ্তাররা নগরের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে চুরি করা একটি সংঘবদ্ধ পেশাদার চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং বাকি চোরাই মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আতিকুল হা-মীম/এমএসএ
