বিজ্ঞাপন

আদালত অবমাননার অভিযোগ : ফেরদৌস ইয়ার্ডের লাইসেন্স বাতিল চায় বেলা

আদালত অবমাননার অভিযোগ : ফেরদৌস ইয়ার্ডের লাইসেন্স বাতিল চায় বেলা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টীল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে গ্যাস লিকেজে তিন শ্রমিক নিহতের ঘটনায় আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা)। একই সঙ্গে ইয়ার্ডটির সব কার্যক্রম বন্ধ, ছাড়পত্র-অনুমতিপত্র ও লাইসেন্স বাতিল এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার (১৬ আগস্ট) ফেরদৌস স্টীল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের স্বত্বাধিকারীসহ শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, শ্রম মন্ত্রণালয়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, বিস্ফোরক পরিদপ্তর, শ্রম অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এ বিষয়ে নোটিশ দিয়েছে বেলা।

নোটিশে বলা হয়, ১৪ আগস্ট ফেরদৌস স্টীল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে ‘আরএএসআই’ নামের একটি জাহাজ (আইএমও নং. ৯১৭৬০০৮) কাটার জন্য আনা হলে গ্যাস লিকেজের ঘটনায় অন্তত ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, অত্যন্ত বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে।

বেলা দাবি করেছে, এই ইয়ার্ডে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একই ইয়ার্ডে অন্তত পাঁচবার একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রশিক্ষণহীন ও অদক্ষ শ্রমিক নিহত ও আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের অধিকাংশই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নতুন ছিলেন এবং নিরাপত্তা সামগ্রী ব্যবহারে অভ্যস্ত ছিলেন না বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

নোটিশে আরও বলা হয়, উচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায় ও আদেশে জাহাজভাঙা কার্যক্রমে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জাহাজ আমদানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত মানা এবং কালো বা ছাই তালিকাভুক্ত দেশ থেকে জাহাজ আমদানি নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করায় একই ইয়ার্ডে বারবার প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

বেলা বলছে, জাহাজভাঙা মালিকদের সংগঠন ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে, তা নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। কারণ, জাহাজভাঙা মালিকরা নিজেরাই স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষ। একইভাবে জাহাজ আমদানিকারক ও ভাঙার অনুমোদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মন্ত্রণালয়ের তদন্তও নিরপেক্ষতার প্রশ্নে প্রশ্নবিদ্ধ। এ কারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বাইরে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে তদন্তকারী সংস্থা গঠন করে ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছে বেলা।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়, আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও জাহাজভাঙা বিষয়ে প্রণীত বিভিন্ন আইন ও বিধিমালায় আদালতের নির্দেশনার যথাযথ প্রতিফলন নেই। এতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও পরিবেশের স্বার্থের চেয়ে কিছু জাহাজভাঙা মালিকের ব্যবসায়িক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

এছাড়া আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গ্যাস-ফ্রি সার্টিফিকেশন নিশ্চিত না করেই জাহাজটি ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র বা ক্লিয়ারেন্স দেওয়াকে আদালতের আদেশের চরম লঙ্ঘন ও আদালত অবমাননার শামিল বলে উল্লেখ করেছে বেলা।

নোটিশে জানুয়ারি ২০১০ থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ফেরদৌস স্টীল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডসহ অন্যান্য জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে কর্মরত অবস্থায় শ্রমিক নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনা স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক মনিরা পারভীন বলেন, ফেরদৌস শিপইয়ার্ড মৃত্যুর ঘটনায় বেলার পক্ষ হতে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আমরা ফেরদৌস স্টীল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের সব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ, ইয়ার্ডটির অনুকূলে দেওয়া ছাড়পত্র, অনুমতিপত্র ও লাইসেন্স বাতিল এবং আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাহাজভাঙা-সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছি। এসব বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপ আগামী ১৯ আগস্ট সকাল ১০টার মধ্যে বেলাকে জানাতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেআই