বিজ্ঞাপন

ডেমরায় বোমা উদ্ধার

নেপথ্যে ‘বোমারু মামুন’, কারাবন্দি ওস্তাদের সঙ্গে বোমা তৈরির পরিকল্পনা

নেপথ্যে ‘বোমারু মামুন’, কারাবন্দি ওস্তাদের সঙ্গে বোমা তৈরির পরিকল্পনা

রাজধানীর ডেমরা, মতিঝিল ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে একের পর এক বোমা উদ্ধার ও রহস্যজনক বিস্ফোরণের পর সাভারে উগ্রবাদীদের গোপন আস্তানার সন্ধান মেলায় রাজধানীজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে জানা গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘নব্য জেএমবি’ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থাতেই তারা একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করে। এই অপতৎপরতার নেপথ্যে মূল পরিকল্পনাকারী বা ‘নাটের গুরু’ হিসেবে কাজ করেছেন নব্য জেএমবির শীর্ষ বোমা বিশেষজ্ঞ নাজমুল হাসান মামুন ওরফে ‘বোমারু মামুন’।

সাম্প্রতিক ঘটনার সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে থাকাকালীন নেটওয়ার্ক বিস্তারের পর জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি ও তার সহযোগী জুয়েল ওরফে ওস্তাদ মিলে পুনরায় সগঠিত হয়ে রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতে বড় ধরনের নাশকতার ছক কষছিলেন।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর ডেমরা সানারপাড়ায় দুটি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তু দুটি সফলভাবে নিষ্ক্রিয় (ডিফিউজ) করে। একটি জনাকীর্ণ এলাকায় এই ধরনের বোমা পাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে থেকে জুয়েল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে ডিএমপির ডেমরা জোনের অতিরিক্ত উপ–কমিশনার মীর মুহসীন মাসুদ রানা ঢাকা পোস্টকে বলেন, ডেমরা এলাকায় আজ বিকেলে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ও এন্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) যৌথ অভিযান চালায়। অভিযানে মো. জুয়েল ভুঞা (২৬) নামের এক যুবকের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাকে তল্লাশি করা হয়।

তিনি বলেন, এ সময় তার হেফাজত থেকে কালো কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অনুমান ৬ ইঞ্চি লম্বা ২টি বোমা সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার করা হয়। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও এক সন্দেহভাজন যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পরে সিটিটিসি বোম ডিসপোজাল ইউনিট গিয়ে বোমা দুটি নিষ্ক্রিয় করে। গ্রেপ্তার ও আটক ব্যক্তিকে ডেমরা থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সংগঠনের ভেতরে জুয়েল ‘ওস্তাদ’ নামে পরিচিত। তিনি একজন উগ্রবাদী মতাদর্শের কর্মী এবং সরাসরি নব্য জেএমবির সামরিক শাখার সঙ্গে যুক্ত।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, নব্য জেএমবির সামরিক কমান্ডার ও শীর্ষ বোমা বিশেষজ্ঞ বোমারু মামুনের প্রত্যক্ষ পরিকল্পনা ও নির্দেশনাই জুয়েল ডেমরা সানারপাড়া এলাকায় ওই বোমা দুটি বহন করে নিয়ে এসেছিলেন এবং বিশেষ উদ্দেশ্যে সেখানে তা রেখেছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে যেসব ধারাবাহিক বোমা উদ্ধার ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, তার প্রায় সবকটির মাস্টারমাইন্ড এই নাজমুল হাসান মামুন ওরফে বোমারু মামুন। এই ওস্তাদ জুয়েল ও বোমারু মামুন পূর্ব পরিচিত। গত ২০২৩ সালে পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের (এটিইউ) দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে নরসিংদী জেলা কারাগারে ছিলেন জুয়েল ওরফে ওস্তাদ। তবে ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই দেশজুড়ে অস্থিরতার এক পর্যায়ে নরসিংদী কারাগার ভেঙে অন্যান্য কয়েদি ও আসামিদের সাথে জুয়েলও পালিয়ে যান।

আরও জানান যায়, কারাগার ভাঙার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে পুলিশ তাকে ধরতে জোর তৎপরতা শুরু করে। পালানোর ঠিক পরদিনই ২৫ জুলাই গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলা থেকে নরসিংদী জেলা পুলিশ তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পুনরায় গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়ায় জুয়েলকে পাঠায় গাজীপুরের অতি-সুরক্ষিত কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে। আর এই কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারই হয়ে ওঠে তাদের পরবর্তী সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক তৈরির মূল কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে আগে থেকেই বন্দি ছিলেন নব্য জেএমবির অন্যতম শীর্ষ বোমা বিশেষজ্ঞ বোমারু মামুন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, কাশিমপুর কারাগারে অবস্থানকালেই মামুনের সঙ্গে ওস্তাদ জুয়েল এবং তার অন্য সহযোগীদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি হয়। দীর্ঘদিনের উগ্রবাদী আদর্শে বিশ্বাসী বোমারু মামুন কারাবন্দি জুয়েল ও অন্য কয়েদিদের প্রভাবিত করে একটি শক্তিশালী সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। কারাগারে বসেই তারা সিদ্ধান্ত নেন বাইরে বের হয়ে কীভাবে নতুন করে নব্য জেএমবির কার্যক্রম চালু করবেন এবং কোথায় কোথায় নাশকতামূলক অভিযান চালাবেন।

আরও জানা যায়, ​২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে এক বড় ধরনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তৈরি হওয়া প্রশাসনিক ও আইনি পরিস্থিতির সুযোগ নেন এই উগ্রবাদীরা। এই চক্রটি সেই সময় সুচতুরভাবে আদালত থেকে জামিনের জন্য আবেদন করে এবং ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে বোমারু মামুন, ওস্তাদ জুয়েলসহ চক্রের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সদস্য একে একে কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে যান। কারাগারের ফটক থেকে বের হওয়ার পর থেকেই তারা আত্মগোপনে চলে যান। সেপ্টেম্বর মাস থেকেই বোমারু মামুনের নেতৃত্বে উগ্রবাদীরা নতুন করে নব্য জেএমবির পতাকাতলে সংগঠিত হওয়ার কাজ শুরু করে। কারাগারের ভেতর যে নীল নকশা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে তারা বেশ কয়েকটি উপ-দলে বিভক্ত হয়ে রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, কারাগার থেকে বেরিয়েই বোমারু মামুন ঢাকা ও তার আশেপাশের কৌশলগত এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে আস্তানা গড়ার পরিকল্পনা করেন। বিশেষ করে ঢাকার মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে এবং সাভারের আশুলিয়ায় পরপর দুটি রহস্যজনক বোমা উদ্ধারের পর অনুসন্ধানে নামে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। ওই দুটি ঘটনার তদন্তের খেই ধরে সিটিটিসির গোয়েন্দারা সাভারে উগ্রবাদীদের একটি গোপন আস্তানার সন্ধান পান।

তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গত ১১ আগস্ট রাতে ঢাকার সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে সিটিটিসির বিশেষ দল। সেখান থেকে মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান নামের নব্য জেএমবির এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সূত্র জানায়, সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুরের ওই ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালিয়ে যে পরিমাণ বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে, তা দেখে তাজ্জব বনে যান অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তারা। উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে ছিল বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্য, একাধিক উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ডেটোনেটর, দূরনিয়ন্ত্রিত রিমোট ও কন্ট্রোলার, বৈদ্যুতিক তার, ভোল্টমিটার, স্প্রিং, জিআই তার, বিয়ারিং বল, গ্যাস ক্যান, বিশেষ গ্যাস টর্চসহ বিভিন্ন মেকানিকাল যন্ত্রপাতি। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি তৈরি করা নিষ্ক্রিয় পাইপ বোমার ধ্বংসাবশেষ (আইইডি) ও প্রচুর পরিমাণে নিষিদ্ধ সংগঠনের দাওয়াতি-সাংগঠনিক লিফলেট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার আরিফ ওরফে ইমরানকে সিটিটিসির কার্যালয়ে এনে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর পরিকল্পনা। সিটিটিসির এডিসি (ইনভেস্টিগেশন) মাঈন উদ্দীন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আরিফ ২০২৩ সালে নব্য জেএমবোর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এই সংগঠনে যোগ দেয়, যার মূল ‘গুরু’ বা মেন্টর ছিলেন এই বোমারু মামুন। 
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাভারের বাসাটি আরিফ ভাড়া নিলেও সেখানে মূলত বোমারু মামুনের নির্দেশনায় ধীরে ধীরে বোমা তৈরির শক্তিশালী সরঞ্জাম জড়ো করা হচ্ছিল। মামুনের চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল সাভারে নব্য জেএমবির জন্য একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বোমা তৈরির ল্যাব গড়ে তোলা। রাজধানীর কেরানীগঞ্জে একটি প্রাথমিক আস্তানা ও কেন্দ্র গড়ে তোলার পর তারা সাভারকে ল্যাব হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়। বড় ধরনের নাশকতা ও হামলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই সেখানে প্রেসার কুকার ও পাইপ বোমা প্রস্তুত করা হচ্ছিল।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে বোমারু মামুনের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা অন্য উগ্রবাদীদের নিয়মিত গোপন যোগাযোগ বজায় ছিল। বিশেষ করে কেরানীগঞ্জের উম্মুল কুরা মাদরাসার পরিচালক শেখ আল আমিনের সঙ্গেও মামুনের সরাসরি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রমাণ পেয়েছে অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ)। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জের ওই মাদরাসায় অত্যন্ত গোপনে বোমা বানানোর সময় একটি আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর পরিচালক আল আমিন তার স্ত্রী ও সন্তানকে ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে লাপাত্তা হয়ে যান। 

সম্প্রতি আল আমিন গ্রেপ্তার হওয়ার পর বোমারু মামুন নিজের নিরাপত্তা নিয়ে অতিরিক্ত সতর্ক হয়ে পড়েন। তবে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন, গ্রেপ্তার আরিফ ও আল আমিনের সাথে মামুনের প্রতিনিয়ত সসংকেতে তথ্য আদান-প্রদান চলত। এমনকি আরিফ গ্রেপ্তার হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ আগেও সাভারের সেই আস্তানায় স্বয়ং বোমারু মামুন নিজে উপস্থিত হয়ে আরিফসহ সংগঠনের অন্য ৪-৫ জন সদস্যকে নিয়ে একটি গোপন বৈঠক করেছিলেন। তবে গত মঙ্গলবার রাতের অভিযানে আরিফ ধরা পড়লেও সেখানে মামুনের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। অভিযানের পূর্ব মুহূর্তেই তিনি কৌশলে সেখান থেকে কেটে পড়েন।

বোমারু মামুনের অতীত ব্যাকগ্রাউন্ড বিশ্লেষণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, তিনি দীর্ঘ ৯ বছর ধরে জঙ্গিবাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় কারারুদ্ধ ছিলেন। তবে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে রহস্যজনকভাবে লাপাত্তা হয়ে যান। ঐতিহাসিক তথ্যমতে, ২০১৭ সালে রাজধানীর পান্থপথের বহুল আলোচিত ‘হোটেল ওলিও’-তে যে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়েছিল, তাতে নিহত সাইফুল ইসলাম নামে এক তরুণ যে বোমাটি ব্যবহার করেছিলেন, সেটি এই ‘বোমারু মামুনেরই বানানো’ ছিল। তৎকালীন সময়ে সেই হামলায় হোটেলটির বিশাল দেয়াল ও লোহার রেলিং ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল। ওই ঘটনার দায়েরকৃত মামলায় মামুনের নাম স্পষ্টভাবে আসামির তালিকায় এলেও দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় তথ্য ও সাক্ষ্যের অভাব দেখা দেয়। ফলে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ‘হোটেল ওলিও’ বিস্ফোরণ মামলা থেকে আদালত মামুনসহ ৯ জনকে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেন। 

আদালতের সেই রায়ে আইনগতভাবে তিনি মুক্তি পেলেও, কারাগার থেকে বের হওয়ার পরপরই তিনি পুরানো ধারায় ফিরে গিয়ে নতুন করে নব্য জেএমবির বোমারু নেটওয়ার্ক পুনর্গঠনের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

দেশের বিভিন্ন স্থানে এভাবে ক্রমাগত বোমা উদ্ধারের ঘটনা, সাভারে ল্যাব বানানোর অপচেষ্টা এবং উগ্রবাদের নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কায় পুলিশ বাহিনীজুড়ে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বর্তমানে কঠোর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি (১৩ আগস্ট, বৃহস্পতিবার) রাজারবাগস্থ বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত গত জুলাই-২০২৬ মাসের ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এই সার্বিক উগ্রবাদ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। উক্ত গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির ও ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদসহ পুলিশের শীর্ষস্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অপরাধ পর্যালোচনা সভায় দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি সাভারে নব্য জেএমবির বোমা ল্যাব বানানোর পরিকল্পনা এবং দেশ অস্থিতিশীল করার আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় চক্রান্ত নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করা হয়। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা সভায় প্রকাশ করেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে নব্য জেএমবির উগ্রবাদীরা ঢাকা ও তার আশেপাশের সুবিধাজনক জায়গায় গোপন অবস্থান নিয়ে বড় কোনো অঘটন ঘটানোর পাঁয়তারা করছে। বিশেষ করে ডিএমপির আওতাধীন রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার বাসা-বাড়ি, কমাশীল ভবন ও মেসে তারা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে অবস্থান নিতে পারে।

এ সব ঝুঁকি এড়াতে সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের প্রতি ডিএমপির আওতাধীন এলাকার প্রতিটি বাসাবাড়ি, হোটেল ও মেসগুলোতে নজরদারি বহুলাংশে বৃদ্ধি করার জন্য কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। 

ঢাকা পোস্টকে সভার তথ্য নিশ্চিত করে ডিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) নিজ নিজ এলাকায় কড়া টহল ও নজরদারি জোরদার করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীতে কোনো প্রকার উগ্রবাদী তৎপরতা দেখা দিলে বিলম্ব না করে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সিটিটিসি, এটিইউ ও ডিএমপির একাধিক বিশেষ টিম পলাতক নাটের গুরু ‘বোমারু মামুন’ ও তার অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেপ্তার করতে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে।

এমএসি/এমএন