বিজ্ঞাপন

আনোয়ারায় টানেল গোলচত্বরে অবৈধ হাইস-মাইক্রো পার্কিং, দুর্ঘটনার শঙ্কা

আনোয়ারায় টানেল গোলচত্বরে অবৈধ হাইস-মাইক্রো পার্কিং, দুর্ঘটনার শঙ্কা

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চাতরী চৌমুহনী টানেল গোলচত্বরের পূর্ব পাশে সড়ক দখল করে অবৈধভাবে মাইক্রোবাস ও হাইস পার্কিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের একটি বড় অংশ দখল করে গাড়ি পার্কিং করা হলেও এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

সর্বশেষ গত ৩০ জুলাই রাতে এ এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় দুই নারী নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হন। রাত ৮টার দিকে উপজেলার চাতরী চৌমুহনী টানেল চত্বরে কোরিয়ান ইপিজেডের শ্রমিকবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

dhakapost.com

স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনার আগে থেকেই গোলচত্বরের পূর্ব পাশে সড়কের বড় একটি অংশ মাইক্রোবাস ও হাইস গাড়ির পার্কিংয়ের দখলে ছিল। ফলে সড়কটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এর আগেও একই স্থানে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টানেল গোলচত্বরের পূর্ব পাশে সড়কের একাংশ জুড়ে সারিবদ্ধভাবে হাইস ও মাইক্রোবাস রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও গাড়িগুলো এমনভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে যে, পথচারীদের স্বাভাবিকভাবে চলাচলের জায়গাও থাকছে না। এতে টানেল দিয়ে আসা যানবাহন, স্থানীয় গণপরিবহন ও পথচারীদের একই জায়গা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

যাত্রীরা জানান, টানেল থেকে নেমে বাস বা হাইসে ওঠার জন্য তাদের সড়কের পাশে দাঁড়াতে হয়। কিন্তু গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে যাত্রীদের অপেক্ষা করার মতো নিরাপদ কোনো জায়গা নেই।

পথচারী কাইয়ুম বলেন, টানেল গোলচত্বরটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত কেন্দ্র। টানেল দিয়ে নগরী থেকে আসা যাত্রীদের একটি বড় অংশ এখান থেকে বাঁশখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলার যানবাহনে ওঠেন।

টানেল ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী রিফাত বলেন, আমরা দাঁড়ানোর জায়গা পাই না। টানেলের গাড়ি থেকে নেমে বাঁশখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পাঁচ-ছয়টি উপজেলার মানুষ এখান থেকে গাড়িতে ওঠেন। কিন্তু গাড়ি পার্ক করে রাখায় যাত্রীদের দাঁড়ানোর জায়গা থাকে না। এতে সড়কের ওপরই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

চাতরী চৌমুহনী এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পোশাকশ্রমিকসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীরা যাতায়াত করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাইস ও মাইক্রোবাস চালকেরা সড়ক দখল করে রেখে আড্ডা দেন। এতে যানজট সৃষ্টির পাশাপাশি নারী শ্রমিকদের সঙ্গে চালকদের অশালীন আচরণ ও হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।

কেইপিজেডে কর্মরত নারী শ্রমিকেরা জানান, কর্মস্থলে যাতায়াতের সময় তাদের দীর্ঘক্ষণ সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। নিরাপদ যাত্রীছাউনি বা নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড না থাকায় অনেক সময় চলন্ত গাড়ির কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এ সময় চালকদের অসৌজন্যমূলক আচরণেরও শিকার হতে হয় তাদের।

সড়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোলচত্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি মোড়ে সড়কের অংশবিশেষ দখল করে গাড়ি রাখার কারণে যানবাহন চলাচলের জায়গা কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে টানেল থেকে দ্রুতগতিতে বের হওয়া যানবাহন গোলচত্বরে এসে হঠাৎ থামা বা দিক পরিবর্তন করলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। শুধু অবৈধ পার্কিং নয়, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো এবং নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড না থাকাও পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ফলে একটি দুর্ঘটনার পর কিছুদিন আলোচনা হলেও স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান হওয়া উচিত।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. রাসেল বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দখল করে পার্কিং করার সুযোগ নেই। আমি লোকাল ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে কথা বলে নির্দেশনা দিচ্ছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সওজের চট্টগ্রাম দক্ষিণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশকে কঠোর হতে হবে। আমাদের অভিযান পরিচালনার সুযোগ খুব বেশি নেই। তারপরও অবৈধ পার্কিং তুলে দিতে স্থানীয় প্রশাসনকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করব।

আনোয়ারা সচেতন নাগরিক ফোরামের সভাপতি আশরাফ উদ্দীন চৌধুরী কুসুম বলেন, গোলচত্বরের আশপাশে নির্দিষ্ট পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামার স্থান নির্ধারণ, সড়ক দখলমুক্ত করা এবং অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো জরুরি। একই সঙ্গে চালকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন, গুরুত্বপূর্ণ টানেল সংযোগ সড়কের এমন একটি ব্যস্ত মোড়ে যদি দীর্ঘদিন ধরে সড়ক দখল করে গাড়ি পার্কিং চলতে থাকে, তাহলে বড় দুর্ঘটনা ঠেকাতে প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশের কার্যকর ব্যবস্থা কোথায়?

চাতরী চৌমুহনী টানেল গোলচত্বরকে নিরাপদ রাখতে দ্রুত সড়ক দখলমুক্ত করে নির্দিষ্ট পরিবহন স্ট্যান্ড ও যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

জেআই