বিজ্ঞাপন

আমাদের গোপন করার কিছু নেই, জনগণের জন্যই কাজ করছি : নজরুল ইসলাম খান

আমাদের গোপন করার কিছু নেই, জনগণের জন্যই কাজ করছি : নজরুল ইসলাম খান

গণমাধ্যমকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আমাদের গোপন করার কিছু নাই। আমরা আপনাদের হয়ে কাজ করছি।

তিনি বলেন, সরকারের মাত্র ছয় মাসে বড় বড় যেসব সমস্যা আরও তীব্র হয়েছে, সেগুলোর সমাধানে যতটুকু সম্ভব কাজ করা হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় তা হয়ত যথেষ্ট নয়, তবে একেবারে কমও নয়।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশে সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং শ্রেণি-পেশার সংগঠন রয়েছে। গত ছয় মাসে তারা জনগণের জন্য নানা ধরনের সহযোগিতা করেছে। কেউ কেউ সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরোধিতাও করেছেন। তবে আমরা সেই বিরোধিতাকেও সহযোগিতারই অংশ হিসেবে দেখতে চাই।

তিনি বলেন, আশা করি, আগামী দিনের পথচলাতেও তারা দেশ, দেশের মানুষ এবং আমাদের সম্মিলিত সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে পাশে থাকবেন।

দেশে চলমান জ্বালানি ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বহু বছর ধরেই আমাদের দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বা গ্যাস আহরণের ব্যাপারে খুব বেশি উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাপেক্সের মাধ্যমে বাংলাদেশে বেশ কিছু গ্যাস তেল অনুসন্ধান এবং আহরণ করা হয়েছে। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানটাকে দুর্বল করে ফেলা হয়েছে। বিশেষ করে গত ১৫ বছরে একেবারেই অকার্যকর করে ফেলার ব্যবস্থা হয়েছে। বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি এমন এক বিষয় যে আপনি চাইলেই খুব দ্রুত সমাধান সম্ভব নয়। গ্যাস বা পেট্রোল আপনি যদি উত্তোলন করতে চান, তার আগে অনুসন্ধান করতে হবে। উত্তোলন করার পরে সেটা ডিস্ট্রিবিউশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমরা আলোচনা করছি। এমনকি মিয়ানমারের সঙ্গেও আলোচনা চলছে, যাতে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নেওয়া যায়।

নজরুল ইসলাম বলেন, আমেরিকা-ইসরাইল ও ইরানের যুদ্ধের কারণে স্বাভাবিক আমদানি ও বিতরণ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমাদের চুক্তি থাকলেও তারা এখন রপ্তানিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। অনেক জায়গা থেকে আমরা আমদানি করছি, কিন্তু সেসব পণ্যবাহী জাহাজ আসতেও দীর্ঘ সময় লাগছে। ফলে জনগণকে কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সম্ভবত ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমাদের প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে এ জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, পরিস্থিতি সমাধানে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, প্রায় ৪০০ কোটি টাকার মতো অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো একটি অর্থনীতি থেকে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং তাদের প্রয়োজন বিবেচনা করেই এই অতিরিক্ত ব্যয় করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি, যত দ্রুত সম্ভব এসব সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, অত্যন্ত অপ্রস্তুত অবস্থায় আমরা এই সংকটের মধ্যে পড়েছি। কে জানত, যুদ্ধটা এভাবে শুরু হবে? কে জানত, এর প্রভাবে আমাদের আমদানি প্রক্রিয়া এভাবে ব্যাহত হবে? যাই হোক, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার চেষ্টা করছে। এতে জনগণের কষ্ট হচ্ছে, সে জন্য আমরা দুঃখিত। তবে সমস্যার সমাধানে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমরা আশা করছি, ইনশাআল্লাহ আমরা সফল হব। কারণ, আমাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রীর চেষ্টারও কোনো ত্রুটি নেই।

বিদেশে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশে তার নানা কুকর্মের তথ্য গণমাধ্যমে আপনারাই প্রকাশ করেছেন। তিনি একজন আসামি। তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে আমরা দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই। কিন্তু তিনি বর্তমানে অন্য একটি দেশে অবস্থান করছেন এবং সেখানেই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। গ্রেপ্তারের পর থেকেই চেষ্টা চলছে, যাতে তিনি সেখান থেকে বের হতে না পারেন এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনা যায়।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিকভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি যাতে কোনো ধরনের সুবিধা না পান, সে জন্য সেখানকার আইনি প্রতিষ্ঠানও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত একজন আসামির ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষে আইনগত ও কূটনৈতিকভাবে যতটুকু করা সম্ভব, তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও যা কিছু করা প্রয়োজন, সরকার তা-ও করবে।

সরকারি বিভিন্ন সংস্থাতে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়োগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই এ ধরনের নিয়োগের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে যে তারা যোগ্য কিনা। তাদের যোগ্যতা রয়েছে কিনা।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী, ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, হুমায়ূন কবির, জাহিদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ।

এএএম/এসএএস