চট্টগ্রাম নগরে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন সুবিধাভোগী নারীরা। কিন্তু প্রশিক্ষণ শেষে নিজের সেলাই মেশিন না থাকায় অর্জিত দক্ষতা ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল মুরাদপুরের নাছরিন ফারজানার মতো নারীদের মনে। বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের জন্য সেলাই মেশিনের ব্যবস্থা করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে নগরের মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে 'ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট' (ভিডব্লিউবি) কার্যক্রমের এক কর্মসূচি উদ্বোধনে গিয়ে এ উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক।
পরিদর্শনকালে আধুনিক দর্জিবিজ্ঞান ও এমব্রয়ডারি ট্রেডের নারীদের সঙ্গে কথা বলে জেলা প্রশাসক জানতে পারেন, প্রশিক্ষণ শেষে তাদের সেলাই মেশিন দেওয়ার সরকারি কোনো ব্যবস্থা নেই। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকেই ‘স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশন’সহ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সংস্থাগুলো ২০ জন নারীর সবার জন্যই নতুন সেলাই মেশিন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নাছরিন ফারজানা বলেন, ‘ভাবতেই পারিনি বিনামূল্যে সেলাই মেশিন পাব। স্যার নিজে উদ্যোগ নেওয়াতে এখন ঘরে বসেই কাজ করে সংসারের টানাপড়েন মেটাতে পারব।’
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হতে না পারলে প্রশিক্ষণের সার্থকতা থাকে না। তিনি প্রশিক্ষকদের পেশাদারত্ব ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে নারীদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার আহ্বান জানান।
মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পাঁচটি ট্রেডে মোট ১০০ জন নারী এই প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন।
জেডএস
