বিজ্ঞাপন

টেকনাফ-উখিয়ায় অপহরণ-মাদক-মানবপাচার দমনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি

টেকনাফ-উখিয়ায় অপহরণ-মাদক-মানবপাচার দমনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি

কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মাদক চোরাচালান ও মানবপাচার দমনে জরুরি রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রামস্থ টেকনাফ সমিতি। এ বিষয়ে পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতে টেকনাফ-উখিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, টেকনাফ-উখিয়া দেশের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তঞ্চলে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মাদক চোরাচালান, মানবপাচার, অস্ত্রধারী সন্ত্রাস ও সীমান্তকেন্দ্রিক সংঘবদ্ধ অপরাধের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন চরম অনিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে। নারী-শিশু, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবীসহ কেউই নিরাপদ নন।

এতে আরও বলা হয়, অনেক পরিবার মুক্তিপণ দিয়ে স্বজনকে ফিরিয়ে আনছে। আবার অনেকে স্বজনের লাশ ফিরে পাচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে মাদক ও মানবপাচার, দুর্গম পাহাড়ে সশস্ত্র অপরাধ, মুক্তিপণজনিত হত্যাকাণ্ড এবং পাহাড় থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিস্থিতি স্থানীয় জননিরাপত্তার জন্য চরম উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে অভিযান পরিচালিত হলেও সমস্যার স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান এখনও নিশ্চিত হয়নি। এ কারণে সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

টেকনাফ-উখিয়াকে বিশেষ অপরাধপ্রবণ অঞ্চল ঘোষণা করে স্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা, অপহরণ, মাদক, মানবপাচার ও সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও পুলিশের সমন্বয়ে নিয়মিত যৌথ অভিযান চালানোর দাবি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া দুর্গম পাহাড়, সীমান্ত, নাফ নদী ও সাগরপথে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি, ড্রোন, নাইট ভিশন ও সিসিটিভির মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় স্থায়ী নিরাপত্তাচৌকি ও সেনা ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানানো হয়।

অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মাদক ও মানবপাচার-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত তদন্ত, অভিযোগপত্র দাখিল, বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পৃথক আদালত বা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি সীমান্ত অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপি দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামস্থ টেকনাফ সমিতির সভাপতি মুখতার আহমদ, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল আলম, সাধারণ সম্পাদক রফিক উল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ শামসুল ইসলাম, রাখাইন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মং হলা সিং, সিআইপি এ. এম. জিয়াবুল, কবি আলী প্রয়াস ও নুরুল আবছার প্রমুখ।

এমআর/জেডএস