কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবালের কার্যালয় থেকে সম্পদ-সংক্রান্ত প্রায় সাড়ে তিনশ দলিলসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রাজধানীর বনানীর ইকবাল সেন্টারের ১৬ তলায় অবস্থিত তার কার্যালয় ইতোমধ্যে সিলগালা করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চার দিন ধরে অভিযান চালিয়ে কার্যালয়টি থেকে তার সম্পদ-সংক্রান্ত প্রায় সাড়ে তিনশ দলিল, কয়েকশ চেকবই, সাতটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) নথি জব্দ করা হয়েছে।
দুদকের উপ-পরিচালক হোসাইন শরীফের নেতৃত্বে একটি স্পেশাল টিম এ অভিযান পরিচালনা করে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, প্রতারণা, জালিয়াতি, অর্থপাচার এবং কর ও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু হয়। পরে এই তালিকায় প্রিমিয়ার গ্রুপ যুক্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আদালতের নির্দেশনায় দফায় দফায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। চার দিন অভিযান চালানোর পর গত বুধবার কার্যালয়টি সিলগালা করা হয়। একজন বিচারিক হাকিমের উপস্থিতিতে এই তল্লাশি ও জব্দতালিকা প্রস্তুত করা হয়।
সূত্র জানায়, অভিযানকালে সাবেক এমপি ইকবালের সম্পদের সাড়ে তিনশ দলিল পাওয়া যায়। এ ছাড়া ছয়শ-এর বেশি চেকবই, ম্যাকবুক, মোবাইল ফোন, নেক্সাস ট্যাব ও আইপ্যাডসহ সাতটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস পাওয়া গেছে।
ইকবাল সেন্টারের মালিক এইচ বি এম ইকবাল। ১৯৯৯ সালে লাইসেন্স পাওয়ার পর ২৬ বছর ধরে এই ভবনেই প্রিমিয়ার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ছিল। গত ৩ আগস্ট ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম তেজগাঁওয়ের শান্তা পিনাকলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এইচ বি এম ইকবালসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং অপরাধের অভিযোগ অনুসন্ধানে আজ প্রিমিয়ার গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। দুদকের প্রধান কার্যালয়ে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে প্রিমিয়ার গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার এ. ডি. এম নাজমুল ইসলাম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা তালুকদার এবং সিএফও মিজানুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গত ৩ আগস্ট তাদের তলব করা হয়েছিল।
২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর ৬৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এইচ বি এম ইকবাল এবং তার ছেলের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক। এ ছাড়া জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদের প্রমাণ পাওয়ায় তার স্ত্রী ও অপর এক সন্তানের নামে সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারি করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবালসহ ২০ জনের বিদেশগমনে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।
আরএম/এমএসএ
