বিজ্ঞাপন

ডাকসু ও শিবির নেতাদের শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগ তদন্তের দাবি ছাত্রদলের

ডাকসু ও শিবির নেতাদের শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগ তদন্তের দাবি ছাত্রদলের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে হেনস্তা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জোরপূর্বক লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে হলের সামনে ডাকসু ও শিবির নেতাদের শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগের ঘটনায় স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ফজলুল হক মুসলিম হল শাখা।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. ইসরাফিল রতনের কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এ দাবি জানানো হয়। স্মারকলিপিতে উভয় ঘটনার তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় সংগঠনটি।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে তার কার্যালয়ে ডেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখা, মানসিকভাবে হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ ধরনের আচরণের অভিযোগ অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক উল্লেখ করে ছাত্রদল এ বিষয়ে দ্রুত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, অভিযোগের তদন্ত শেষে প্রাধ্যক্ষ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে, ১৬ আগস্ট রাতে ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষকে উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হলের সামনে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগেরও তদন্ত দাবি করেছে ছাত্রদল।

স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়, ডাকসু নেতাদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন হল থেকে শিবির নেতাকর্মীদের এনে হল অফিসের সামনে ‘মব’ তৈরি করে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

বিশেষ করে অমর একুশ হল সংসদের এজিএস ও শিবির নেতা উবায়দুর রহমান হাসিবের বিরুদ্ধে বস্তাভর্তি জুতা নিয়ে শিক্ষকদের মানহানি ও অপদস্থ করার অপচেষ্টার যে অভিযোগ রয়েছে, সেটিও তদন্তের দাবি জানায় ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্রদল।

এ ছাড়া, বিভিন্ন হল থেকে শিবির নেতাদের ডেকে এনে হলের অভ্যন্তরে ‘মব’ তৈরি, শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট এবং শিক্ষকদের হেনস্তার ঘটনায় ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের সংশ্লিষ্টতা ও ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে স্মারকলিপিতে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, উপর্যুক্ত উভয় ঘটনার দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

এজেডআর/এসএএস