বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামে নিখোঁজ স্কুলছাত্র শাওনের মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪ বন্ধু

চট্টগ্রামে নিখোঁজ স্কুলছাত্র শাওনের মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪ বন্ধু

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর মুফিদ আহমেদ শাওন (১৪) নামের এক স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শাওনের চার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

সোমবার (১৭ আগস্ট) মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, শাওন নগরের হালিশহরের চট্টগ্রাম মডার্ন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারের সঙ্গে সে চুনা ফ্যাক্টরি এলাকায় থাকত। তাদের গ্রামের বাড়ি সন্দ্বীপ উপজেলায়।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৫ আগস্ট) শাওনের স্কুলে পরীক্ষা ছিল। দুই ঘণ্টার পরীক্ষার এক ঘণ্টা পরই খাতা জমা দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে পতেঙ্গা সৈকতে যায় সে। পরীক্ষা শেষে সাধারণত এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে বাসায় ফিরলেও ওই দিন বিকেল গড়িয়ে গেলেও শাওন বাড়ি ফেরেনি। বিকেল ৩টার পর থেকে তার মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। শাওনের বাবা মাহবুবুর রহমান বলেন, একটু দেরি হলেও শাওন ফোন করে জানাত। কিন্তু সেদিন বিকেল ৩টার পর থেকে তার কোনো ফোন পাইনি। তার মা বারবার আমাকে ছেলেকে খুঁজতে বলছিলেন।

ছেলের খোঁজে প্রথমে শাওনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইদকানের বাসায় যান তার বাবা। সেখানে কোনো তথ্য না পেয়ে ইদকানের বাবার সহপাঠী ও হালিশহর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিহাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি।

পরিবারের দাবি, ওই রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাওনের কয়েকজন বন্ধুকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন তারা শাওন সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী তথ্য দেয়। প্রথমে তারা জানায়, সবাই একসঙ্গে পতেঙ্গা থেকে ফিরে শাওনকে বি-ব্লক ব্রিজের পাশে নামিয়ে দিয়েছে। পরে সাব্বির নামের আরেক বন্ধুও একই ধরনের কথা বলে। তবে এসব তথ্য যাচাই করেও শাওনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে ওই রাতেই হালিশহর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শাওনের বন্ধুদের দেওয়া বক্তব্য থেকে ঘটনার বিষয়ে নতুন তথ্য পাওয়া যায় বলে দাবি পরিবারের। তাদের দাবি অনুযায়ী, শাওনসহ তারা সবাই সাগরের পানিতে নেমেছিল। এক পর্যায়ে ঢেউয়ের তোড়ে শাওন পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। বন্ধুরা তাকে ধরে ওপরে তোলার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। পরে তারা শাওনকে ছেড়ে দেয় এবং সে সাগরে ভেসে যায়।

পরিবারের দাবি, এরপর শাওনের স্কুলব্যাগও সাগরে ফেলে দিয়ে বন্ধুরা বাড়ি ফিরে যায়। ঘটনার পর বিষয়টি পরিবার বা পুলিশকে না জানিয়ে গোপন রাখা হয়। আইনি ঝামেলা এড়াতেই তারা বিষয়টি গোপন রেখেছিল বলে জানতে পেরেছে পরিবার।

এদিকে, সোমবার পতেঙ্গা থানা-পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে একটি মরদেহ উদ্ধার করে। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় মরদেহটি আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শাওনের বলে শনাক্ত করেন।

ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় শাওনের চার বন্ধুকে আসামি করে হালিশহর থানায় মামলা করেছে তার পরিবার। মামলার চার আসামিকেই গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. সুলতান আহসান উদ্দিন বলেন, মামলার চার আসামিকেই গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এমআর/এসএএস