বাংলাদেশ জেলের নাম পরিবর্তন করে ‘কাস্টোডিয়াল অ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহার হোসেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান তিনি।
সৈয়দ মো. মোতাহার হোসেন বলেন, আধুনিক কারা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারা বিভাগের আইন ও বিধিবিধান যুগোপযোগী করার কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে ‘কাস্টোডিয়াল অ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস অ্যাক্ট’-এর খসড়া প্রণয়ন করে অনুমোদনের জন্য পেশ করা হয়েছে।
আইজি প্রিজনস বলেন, ২ হাজার ২৪৭ জন কারাবন্দী কারাগার থেকে পালালেও এর মধ্যে ১ হাজার ৫৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এখনও ৬৯০ জন কারাবন্দী পালাতক পলাতক রয়েছেন, তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
কারাগারে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কারাগারে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমানে ৭৫টি কারাগার রয়েছে। প্রতিটি কারাগারের খাবারের পরিমাণ ও মান নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। ২১টি কারাগার সংস্কার প্রয়োজন।
কারাগারে মাদক ঢুকছে এবং কারারক্ষীরা এসব কাজে সহায়তা করছেন— এ বিষয়ে করা প্রশ্নে তিনি বলেন, মাদক এবং আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। মাদকসংক্রান্ত অপরাধে কেউ যদি জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তাদের জন্য আমরা অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করছি।
কারাগারের আইজি প্রিজনস আরও জানান, গত দুই বছরে এসব কারণে ২১ জনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এবং ৮২ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ৮৭০ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ছোটখাটো অপরাধের কারণে ৩০৩ জনকে বিভিন্ন বিভাগের বাইরে পাঠানো হয়েছে। আমাদের কোনো কারারক্ষী যদি মাদকসংক্রান্ত কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়েন, তাকে আমরা ফৌজদারি মামলা দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করছি।
তিনি জানান, ধারণক্ষমতার সমস্যার কারণে অনেক দুর্ধর্ষ আসামিকে আলাদা করে রাখা যাচ্ছে না। কিছু দুর্বলতার কারণে সাধারণ আসামিরা হয়ত কারাগারে জঙ্গিদের সংস্পর্শে এসেছে। তবে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, দেশে ৬০টি জেলা কারাগার এবং ১৫টি কেন্দ্রীয় কারাগার রয়েছে। এসব কারাগারে বন্দি ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার। এর বিপরীতে বর্তমানে বন্দির সংখ্যা ৯৮ হাজার।
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন কারাবন্দি অবস্থায় মারা গেছেন। মৃতদের স্বজন ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কারাগারে নির্যাতনের কারণে মৃত্যুর অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, কারা কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি নেই। বর্তমানে ১২২ জন বন্দি কারাগারের বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি জানান, ২০২৫ সালে কারাগারে ১৮৭ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১২২ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে কারাগারগুলোতে চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কারাগারে নিষিদ্ধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মোবাইল ফোনে কথা বলছেন কি না জানতে চাইলে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, বন্দিরা মোবাইলে কথা বলছে না, এমন নিশ্চয়তা শতভাগ দেওয়া সম্ভব নয়। তবে এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি বলেন, গত এক বছরে তিন হাজারের বেশি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে কারাগারে মোবাইল ব্যবহারের ঘটনা কমে আসছে।
দেশের বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে ৩৭৯ জন বিদেশি বন্দি রয়েছেন বলেও জানান কারা মহাপরিদর্শক। তাদের মধ্যে ১৭০ জনের সাজা শেষ হয়েছে। তবে নিজ দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকায় তারা এখনো কারাগারে রয়েছেন। দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের নিজ নিজ দেশে পাঠানোর বিষয়ে যোগাযোগ চলছে।
গত দুই বছরে বিদেশি বন্দিদের ১৭টি মরদেহের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে দুটি মরদেহ ভারতে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে।
বিদেশি বন্দিদের মরদেহ সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয় জানিয়ে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, বর্তমানে তিনটি মরদেহ হিমাগারে সংরক্ষিত রয়েছে। কোনো পরিবার বা বিদেশি প্রতিনিধি মরদেহ নিতে না এলে ডিএনএ সংরক্ষণ করে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসএএ/এসএএস
