বিজ্ঞাপন

ঢাকার সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি-সমন্বিত পরিকল্পনার তাগিদ

ঢাকার সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি-সমন্বিত পরিকল্পনার তাগিদ

নগরায়ণ, পরিবেশ দূষণ, জলাবদ্ধতা, যানজট, জনস্বাস্থ্য, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও উন্মুক্ত স্থানের ঘাটতিসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনার তাগিদ দিয়েছেন আলোচকরা।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাংলামটোরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) কনফারেন্স রুমে আয়োজিত ‘ঢাকা শহরের বাসযোগ্যতা: চ্যালেঞ্জ ও পরিকল্পিত সমাধানের পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।

সভায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান বলেন, ঢাকা বর্তমানে বাসযোগ্যতার নিম্নতম পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলেও তার যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে নগরের বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বিআইপির সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ঢাকার বাসযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা করার প্রধান কারণ হলো বৈশ্বিক বাসযোগ্যতা সূচকে ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং ঢাকার নগরজীবনে এর প্রতিফলন স্পষ্ট। পরিবহন, বায়ু ও শব্দদূষণ, জলাবদ্ধতা, সবুজ ও উন্মুক্ত স্থান, জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি- এসব বিষয় সরাসরি নগর পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত। দ্রুত নগরায়ণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিকল্পিত অবকাঠামো ও সেবা নিশ্চিত না হওয়ায় ঢাকা ক্রমেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে।

পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, গত ছয় মাসে নগরের বাসযোগ্যতা উন্নয়নে সরকার কার্যকর ও দৃশ্যমানভাবে কতটুকু উদ্যোগ নিয়েছে, তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ঢাকার ফুটপাত দখল, অবৈধ ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং নগর ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছু বলার নেই। প্রথমে খালগুলো কারা দখল করেছে এবং কীভাবে দখল হয়েছে, তা চিহ্নিত করা প্রয়োজন। নগরের পার্ক ও খেলার মাঠ সংরক্ষণ ও উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে বাস্তব উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।

পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান বলেন, গাজীপুর-ঢাকা বিআরটি দ্রুত চালু করা প্রয়োজন এবং ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় আরও বিআরটি রুট সংযোজন করা যেতে পারে। বড় ও ব্যয়বহুল প্রকল্পের পাশাপাশি ছোট কিন্তু জরুরি নগর সমস্যাগুলো সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

পরিকল্পনাবিদ এ. কে. এম. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঢাকার বাসযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে দেশের অন্যান্য শহরের সমস্যাগুলোকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। ঢাকার বাসযোগ্যতা কমে গেলেও মানুষ ঢাকামুখী হচ্ছে, কারণ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে কর্মসংস্থান, সেবা ও সুযোগের ঘাটতি রয়েছে।

পরিকল্পনাবিদ তালহা তাসনিম বলেন, পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে একই ধরনের তথ্য বারবার সংগ্রহ করতে হয়, ফলে সময় ও সম্পদের অপচয় হয়। একটি সমন্বিত জাতীয় ডেটাবেজ থাকলে পরিকল্পনা প্রণয়ন আরও কার্যকর, দ্রুত ও কম ব্যয়বহুল হবে। তথ্যের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ও বৃদ্ধি করা সম্ভব।

বিআইপির সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, পান্থকুঞ্জের বিষয়টি একটি বৃহত্তর পরিকল্পনাগত সমস্যার উদাহরণ মাত্র। সবুজ ধ্বংস করে উন্নয়ন করাকেই যদি উন্নয়নের স্বাভাবিক পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে ঢাকার বাসযোগ্যতা আরও কমবে। 

এএসএস/এসএইচএ