বিজ্ঞাপন

মানসম্মত ইন্টারনেট না থাকাও বড় ডিজিটাল বিভাজন : বিটিআরসি চেয়ারম্যান

মানসম্মত ইন্টারনেট না থাকাও বড় ডিজিটাল বিভাজন : বিটিআরসি চেয়ারম্যান

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেছেন, শুধু ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই ডিজিটাল বিভাজন দূর হয় না। মানসম্মত ইন্টারনেটের অভাবও এখন বড় ধরনের ডিজিটাল বিভাজন তৈরি করছে। সময়ের সঙ্গে ডিজিটাল বিভাজনের ধারণা পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই সবার জন্য মানসম্মত ও কার্যকর ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ‘পাওয়ারিং দ্য ফিউচার : রবি কমপ্লিটস ঢাকা মডার্নাইজেশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে সহায়তার লক্ষ্যেই টেলিযোগাযোগ খাতের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সে সময় সবার কাছে সংযোগ পৌঁছে দেওয়াই ছিল মূল লক্ষ্য। কিন্তু সংযোগের গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন ধরনের বৈষম্য সামনে আসে, যা পরে ডিজিটাল বিভাজন হিসেবে চিহ্নিত হয়।

তিনি বলেন, একসময় সংযোগ না থাকাকে ডিজিটাল বিভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হতো। পরে দেখা গেল, শুধু সংযোগ যথেষ্ট নয়, ইন্টারনেটের সুযোগও থাকতে হবে। এরপর স্পষ্ট হয়েছে, ইন্টারনেট থাকলেই হবে না, এর মানও ভালো হতে হবে। মানসম্মত ইন্টারনেটের সুযোগ থেকে বঞ্চিত মানুষ উন্নয়নের দৌড়ে আরও পিছিয়ে পড়েন। এ কারণে ডিজিটাল বিভাজন দূর করার ক্ষেত্রে রবির নেটওয়ার্কের গুণগত মানে গুরুত্ব দেওয়ার উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

রবির কার্যক্রমের প্রশংসা করে এমদাদ উল বারী বলেন, একজন নিয়ন্ত্রক হিসেবে রাজস্বের ধরন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভয়েস ও ডেটা রাজস্বের মধ্যে রবির একটি স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য রয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ডেটা রাজস্বও ক্রমাগত বাড়ছে।

তিনি বলেন, শুধু ঢাকায় নেটওয়ার্কের মান উন্নত করলেই হবে না এর সুবিধা সারা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। একইসঙ্গে নেটওয়ার্কের গুণগত মানে কী পরিবর্তন এসেছে এবং এর মাধ্যমে গ্রাহকেরা কী সুবিধা পাচ্ছেন, সে বিষয়েও মানুষকে জানাতে হবে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, উন্নত নেটওয়ার্কের সুফল মানুষ একদিনে বুঝতে পারবে না। পরিবর্তন উপলব্ধি করতে সময় লাগবে। তবে সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া দ্রুত করা সম্ভব। এ কাজ শুধু নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব নয়, মোবাইল অপারেটরদেরও এতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

ডেটা প্যাকের মেয়াদ ও মূল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সীমাহীন মেয়াদের ডেটা চালুর বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। সব ডেটার মেয়াদ সীমাহীন করা হলে এর মূল্য বেড়ে যেতে পারে, যা অনেক গ্রাহকের সামর্থ্যের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই এ বিষয়ে গ্রাহকদের বাস্তবতা ও খরচের বিষয়টি বোঝানো প্রয়োজন।

২০২৯ সালের মধ্যে ২জি নেটওয়ার্ক বন্ধ করার লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে এমদাদ উল বারী বলেন, লক্ষ্য নির্ধারণ করা সহজ হলেও তা বাস্তবায়ন জটিল। কারণ দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ এখনো ফিচার ফোন ব্যবহার করছেন। ২জি নেটওয়ার্ক বন্ধ করতে হলে তাই মানুষের হাতে ডেটা ব্যবহারের উপযোগী স্মার্টফোন বা হ্যান্ডসেট পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

হ্যান্ডসেট সহজলভ্য করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। হ্যান্ডসেট কেনার ক্ষেত্রে কিস্তি বা ইএমআই সুবিধা বাড়াতেও নিয়ন্ত্রক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। মোবাইল অপারেটরদের এ ধরনের কার্যক্রম আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও আধুনিক করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে হবে। সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, চাহিদার পূর্বাভাস ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, নেটওয়ার্কের দক্ষতা বাড়াতে কী ধরনের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা প্রয়োজন এবং কোথায় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে অপারেটরদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বিটিআরসি সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত এবং প্রস্তাবগুলো মূল্যায়ন করবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক ও টেলিযোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রবি আজিয়াটা পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াদ সাতারা এবং রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার শাহেদ আলম।

আরএইচটি/জেডএস

বিজ্ঞাপন