চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) এলাকায় বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও আটক চোরকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সংঘবদ্ধ চোর চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন, আসলাম শেখ, আব্দুল কাইয়ুম (৩২), মো. রাশেদ (৩৮) ও মো. রাসেল আলামিন (২৯)।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে সিইপিজেডের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশের খবর পেয়ে বেপজার নিরাপত্তা টহল দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় আসলাম শেখ (২৪) নামে একজনকে আটক করা হয়। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের জন্য নিয়ে যাওয়ার পথে তার সহযোগীরা হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়।
পুলিশ জানায়, ১৮ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে মেসার্স তারিক আজিম টেক্সটাইল লিমিটেডে একদল চোর প্রবেশ করেছে এমন খবর পেয়ে বেপজার সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা আ.ব.ম. নাজির হোসেনের নেতৃত্বে একটি টহল দল ঘটনাস্থলে যায়। নিরাপত্তারক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরেরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে আসলাম শেখকে আটক করা হয়।
আসলামকে সরকারি পিকআপে করে সিইপিজেড পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়ার সময় বেপজা সিকিউরিটি গেট থেকে প্রায় ২০ মিটার উত্তর-পূর্বে বিডি অ্যাপারেলসের গেটের সামনে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল গাড়ির গতিরোধ করে। তারা গাড়িটি ভাঙচুর করে এবং আটক আসলামকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় বেপজার নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দিলে হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে নিরাপত্তারক্ষীদের মারধর ও গাড়ি ভাঙচুর করে আসলাম শেখকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর বেপজার সহকারী পরিচালক (প্রশাসন ও এস্টেট) পাপ্পু দে বাদী হয়ে আসলাম শেখসহ নয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩০ থেকে ৪০ জনের বিরুদ্ধে ইপিজেড থানায় মামলা করেন।
ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, ইপিজেড ও বন্দর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ছিনিয়ে নেওয়া আসলাম শেখসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।
এমআর/আরএফ
