বিজ্ঞাপন

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের জন্য কাজ করব

আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের জন্য কাজ করব

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরকে সক্রিয় করে এর মাধ্যমে আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের জন্য কাজ করব। এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো একক দলের নয়, এটি পুরো জাতির। সব শহীদ পরিবার ও আহতের পরিচর্যা ও সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

বুধবার (১৯ আগস্ট) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটি’র সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা বাস্তবায়ন, শহীদ পরিবারগুলোর উপযুক্ত পুনর্বাসন এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের সুচিকিৎসা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে সরকার পূর্ণ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এই মন্ত্রণালয় এবং নবগঠিত জুলাই অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিটি শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধার কল্যাণে কাজ করা হবে; এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ থাকবে না।

জুলাই’২৪-এর সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও আহতদের সেবায় সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বাংলাদেশ গড়বে, সেজন্য আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। আর সেই অঙ্গীকার থেকেই আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরকে সক্রিয় করে এর মাধ্যমে আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের জন্য কাজ করব। এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো একক দলের নয়, এটি পুরো জাতির। সব শহীদ পরিবার ও আহতের পরিচর্যা ও সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

সভায় উপস্থিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এমপি আহতদের চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসনের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জুলাই আহতদের ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন এবং তাদের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিত করা। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে যাদের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তাদের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করছি। আহত জুলাই যোদ্ধারা যেন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মান সহনীয় পর্যায়ে থাকে, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক ও তৎপর রয়েছি।

তালিকার নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোকপাত করে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, জুলাই যোদ্ধা ও শহীদদের তালিকায় যেসকল ভুলত্রুটি বা অভিযোগ আসছে, সেগুলো তদন্ত সাপেক্ষে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সংশোধন করা হচ্ছে। জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের আবেদনের ভিত্তিতে ডাক্তারি সনদসহ জেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদনপূর্বক গেজেটভুক্ত করা হয়। আমাদের লক্ষ্য একটি সম্পূর্ণ নির্ভুল ও স্বচ্ছ তালিকা উপহার দেওয়া, যাতে কোনো অযোগ্য ব্যক্তি এতে সুযোগ না পান এবং প্রকৃত কোনো জুলাই যোদ্ধা বা শহীদ পরিবার বাদ না পড়েন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৪৫-এর সংসদ সদস্য ও জুলাই শহীদ জাবিরের মাতা রোকেয়া বেগম। এছাড়া সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থ বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা; সরকার মনোনীত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের একজন প্রতিনিধি এবং জুলাই যোদ্ধাদের একজন প্রতিনিধি।

এমএসআই/এমএসআই