বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামে গণশুনানিতে অসহায় মানুষের পাশে জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রামে গণশুনানিতে অসহায় মানুষের পাশে জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে অসুস্থতা, আর্থিক সংকট ও নানা সমস্যার কথা নিয়ে আসা কয়েকজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। 

বুধবার (১৯ আগস্ট) গণশুনানিতে তাদের কথা শুনে চিকিৎসা ও জীবনধারণের জন্য তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেন তিনি।

রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের আবুরখীল গ্রামের কল্লোল বড়ুয়া এসেছেন স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য সহায়তা চাইতে। তার স্ত্রী সুরভী বড়ুয়ার গলায় কয়েক মাস আগে টিউমার ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন। এতে প্রায় এক লাখ টাকা প্রয়োজন হলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে কল্লোল কাজ করতে পারেন না। সংসারে নিয়মিত আয় না থাকায় চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে পারছিলেন না তিনি। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানালে স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য কল্লোলকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

গণশুনানিতে আসেন রাউজানের কদলপুর গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী হাসনা হেনাও। তার বাবা মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ ২০২২ সালে মারা যান। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও হাসনা ২০০৮ সালে এসএসসি পাস করেন। স্থায়ী কর্মসংস্থান না থাকায় বর্তমানে মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। সামান্য আয় দিয়ে দৈনন্দিন খরচ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার সমস্যার কথাও শুনে সহায়তা করেন জেলা প্রশাসক।

আনোয়ারার পড়ৈইপাড়া এলাকার ছবি দত্ত বর্তমানে নগরীর মতিঝর্ণায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় ভুগছেন। তার স্বামীও অসুস্থ। দুজনের চিকিৎসা, ওষুধ ও সংসারের খরচ চালানোর মতো নির্ভরযোগ্য কোনো আয়ের উৎস নেই। এ অবস্থায় তিনিও জেলা প্রশাসকের কাছে সহায়তা চান।

রাঙ্গুনিয়ার পারুয়া ইউনিয়নের সৈয়দনগর গ্রামের মো. রাশেদ দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েও তার অবস্থার উন্নতি হয়নি। অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারানো রাশেদ স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে আর্থিক সংকটে রয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সহায়তা চেয়ে গণশুনানিতে আসেন তিনি।

এ ছাড়া উত্তর আগ্রাবাদের দিলুয়ারা আক্তার সুলতানাও চিকিৎসার জন্য সহায়তা চান। তার স্বামী ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি হৃদ্‌রোগে মারা যান। দিলুয়ারা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও থ্যালাসেমিয়াসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত। থ্যালাসেমিয়ার কারণে প্রতি তিন মাস পরপর তাকে রক্ত নিতে হয়। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যয়বহুল ওষুধ সেবন করতে হয়। তার একমাত্র সন্তান স্বল্প বেতনে চাকরি করলেও মায়ের চিকিৎসার পুরো ব্যয় বহন করতে পারছেন না।

গণশুনানিতে আসা এসব মানুষের সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। পরে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেন তিনি।

এমআর/আরএফ