বাংলাদেশের ক্যানসার রোগীদের উন্নত ও সমন্বিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও চীনের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে সংবাদ সম্মেলন ও অংশীদারদের মতবিনিময় সভা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের ওয়েল পার্ক রেসিডেন্সে চট্টগ্রাম মেডিকেল ট্রাভেল ফোরামের (সিএমটিএফ) আয়োজনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এতে কৌশলগত সহযোগী হিসেবে অংশ নেয় চীনের মডার্ন ক্যানসার হসপিটাল গুয়াংজু এবং প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশ কার্যালয়। উন্নত ক্যানসার চিকিৎসার জন্য শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, মেডিকেল ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠান, ট্রাভেল এজেন্সি, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, ক্যানসার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা, আধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেওয়া এবং বাংলাদেশ থেকে চীনে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের জন্য একটি দায়িত্বশীল ও সমন্বিত সেবা কাঠামো গড়ে তোলাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানের চিকিৎসাবিষয়ক অধিবেশনে মডার্ন ক্যানসার হসপিটাল গুয়াংজুর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. উ ওয়েই ক্যানসার চিকিৎসায় বহু বিভাগীয় চিকিৎসক দলের ভূমিকা তুলে ধরেন। রোগীর শারীরিক অবস্থা, ক্যানসারের ধরন ও পর্যায় বিবেচনায় নিয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এ সময় রোগীর শরীরে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার ছাড়াই চিকিৎসা দেওয়ার বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে ইন্টারভেনশনাল থেরাপি, ক্রায়োঅ্যাবলেশন, মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশন ও পার্টিকেল ইমপ্লান্টেশনসহ বিভিন্ন আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতির বিষয় তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, সব চিকিৎসাপদ্ধতি প্রত্যেক রোগীর জন্য উপযোগী নয়। রোগীর চিকিৎসা প্রতিবেদন, পূর্ববর্তী চিকিৎসা, বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা উচিত। একই সঙ্গে রোগী ও স্বজনদের কাছে অতিরঞ্জিত প্রতিশ্রুতি বা নিশ্চিত ফলাফলের দাবি না করে স্বচ্ছ ও যাচাই করা তথ্য তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে মডার্ন ক্যানসার হসপিটাল গুয়াংজুর বাংলাদেশ কার্যালয়ের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক রোগী সেবা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতামত নেওয়া, চিকিৎসা প্রতিবেদন সংগ্রহ ও প্রাথমিক মূল্যায়ন, চিকিৎসকের সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ, চীন ভ্রমণসংক্রান্ত নির্দেশনা, চিকিৎসাকালীন যোগাযোগ এবং চিকিৎসা-পরবর্তী পর্যবেক্ষণ সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আকাশ চীনের হাসপাতালটির সেবা, বাংলাদেশে পরিচালিত কার্যক্রম এবং চট্টগ্রামের মেডিকেল ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, স্বচ্ছ, নৈতিক ও জবাবদিহিমূলক রোগী রেফারেল ব্যবস্থার মাধ্যমে রোগীদের সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ ছাড়া, চট্টগ্রাম মেডিকেল ট্রাভেল ফোরামের সদস্য ও সম্ভাব্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তথ্যের গোপনীয়তা, নৈতিক প্রচারণা, অংশীদারদের প্রশিক্ষণ, রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য পাঠানো এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা নিয়ে মতবিনিময় হয়। যোগ্য ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যথাযথ যাচাই ও অনুমোদনের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয়।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামে ক্যানসার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ার পাশাপাশি রোগীদের কাছে নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং বাংলাদেশ ও চীনের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।
এমআর/এসএএস
