দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে দলভিত্তিক হিসাব-নিকাশ চূড়ান্ত রূপ নিতে শুরু করেছে। জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন যোগ্য ভোটারের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২৪৭টি আসন নিয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের নিজ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ না থাকায়, বিএনপির ২৪৭টি ভোটই তাদের মনোনীত প্রার্থীর ঝুলিতে যাওয়া একপ্রকার নিশ্চিত বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদের অধিবেশন কক্ষে টানা ভোটগ্রহণ চলবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচনী কর্তা। জাতীয় সংসদের মোট ৩৫০টি আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্যপদ বাতিল হওয়ায় এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৯ জনে। এই ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের ভোটেই নির্বাচিত হবেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।
চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলভিত্তিক বিন্যাসে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। দলটির একক সংসদ সদস্য সংখ্যা ২৪৭ জন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে, যাদের সদস্যসংখ্যা ৭৭। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৮ জন, স্বতন্ত্র ৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৩ জন এবং অন্যান্য ছোট দলগুলোর মিলিয়ে রয়েছে ৬ জন সংসদ সদস্য।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ইতোমধ্যেই দুটি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বলয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিএনপির ২৪৭ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন নিয়ে তাদের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অনেকটাই জয়ের কাছাকাছি অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটবদ্ধভাবে প্রার্থী করেছে অলি আহমদকে। জামায়াতের ৭৭ জন সদস্যের পাশাপাশি এনসিপি ও জোটের অন্যান্য শরিক দলের সমর্থন রয়েছে তার পক্ষে। জামায়াত সাংবিধানিক সৌন্দর্যের জন্য নিশ্চিত হার জেনেও ভোটে অংশগ্রহণ করছেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য যদি নিজ দলের বিরুদ্ধে সংসদে ভোট দেন, তবে তার সংসদ সদস্যপদ শূন্য হয়ে যাবে। যদিও বিরোধী জোট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ৭০ অনুচ্ছেদর বাতিল চেয়ে বিরোধিতা করেছে। তবে ক্ষমতাসীন বিএনপি বিদ্যমান সংবিধানের আলোকেই ভোট হবে বলে জানিয়েছে। সেই হিসেবে বিতর্কের মধ্যেও ভোটের তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানে বর্তমানে কোনো বাধা নেই এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ মেনেই ভোটগ্রহণ ও ভোট গণনার মাধ্যমেই চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করা হবে।
এদিকে ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও ভোটের দিন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের উপস্থিত থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। চিকিৎসার জন্য তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। আজ ২০ আগস্ট ভোটের দিন তিনি সংসদে সশরীরে উপস্থিত থেকে ভোট দিতে পারবেন না বলেই জানা গেছে। মির্জা আব্বাস ভোট দিতে না আসলে দলটির নির্ধারিত ২৪৭ ভোটের থেকে এক ভোট কম পাবে দলটি।
২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সেই সময়সীমার মধ্যেই ২০ আগস্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এর আগে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় ৬ আগস্ট। তফসিল অনুযায়ী-৩ আগস্ট, মনোনয়নপত্র জমা; ১৬ আগস্ট, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই; ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল। আর ভোটগ্রহণ চলবে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
এসআর/আরএফ
