বিজ্ঞাপন

রাশিয়া থেকে নিয়ন্ত্রিত অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন সিআইডির জালে

রাশিয়া থেকে নিয়ন্ত্রিত অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন সিআইডির জালে

বিদেশ থেকে পরিচালিত অনলাইন জুয়া সাইটের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাদের মধ্যে একজন রাশিয়া থেকে নিয়ন্ত্রিত একটি অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন হিসেবে কাজ করতেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।

গ্রেপ্তাররা হলেন নড়াইলের সৈয়দ জামান (২৭) এবং যশোরের চৌগাছার রুহুল কুদ্দুস ওরফে বাপ্পী (২৮)।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজশাহী ও ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এসব তথ্য জানান।

সিআইডি জানায়, বুধবার দুপুরে রাজশাহী নগরের চন্দ্রিমা থানাধীন পদ্মা আবাসিক এলাকা থেকে সৈয়দ জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাতে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে রুহুল কুদ্দুস ওরফে বাপ্পীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডির ভাষ্য, নিয়মিত সাইবার নজরদারির সময় দেশের অভ্যন্তর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন জুয়া সাইটের কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়। এসব সাইটের বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচার করা হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে অর্থের বিনিময়ে জুয়া এবং অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনার তথ্যও পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় সিআইডি বাদী হয়ে গত ১৭ মে পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তে গ্রেপ্তার দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।

সিআইডি জানায়, চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকায় জুয়ার এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের মোবাইল আর্থিক সেবার নম্বর ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করত। এসব নম্বর ও হিসাব অনলাইন জুয়া সাইটে যুক্ত করে জুয়ায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ এবং উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হতো।

পরবর্তী সময়ে জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে এজেন্টরা কমিশন কেটে রাখার পর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থ বিদেশে পাচার করত বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বলেন, গ্রেপ্তার দুজন নিজ নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম অনলাইন জুয়া সাইটে সক্রিয় করার পাশাপাশি বিভিন্ন এজেন্টের সিম সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে যুক্ত করতেন। তারা অনলাইন জুয়া সাইটের অর্থ জমা ও উত্তোলন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, চক্রটির সঙ্গে দেশের বাইরে অবস্থানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো ধরনের যোগসূত্র রয়েছে কিনা এবং অবৈধভাবে লেনদেন করা অর্থ দেশের বাইরে পাচার করা হচ্ছে কিনা, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

একই মামলায় এর আগে বিভিন্ন সময়ে আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় সিআইডি। গত ৭ জুন টাঙ্গাইল থেকে তিনজন, ১৬ জুন নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ থেকে তিনজন এবং ১২ জুলাই নড়াইল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির সাইবার পার্সোনেল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট শাখা। গ্রেপ্তার দুজনকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সিআইডি অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রমে কোনো ব্যক্তি বা চক্রের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন না করা এবং অনলাইন জুয়া সম্পর্কে তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করে।

এমএসি/আরএফ